১৭, জানুয়ারী, ২০১৮, বুধবার | | ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৯

প্রত্যাবাসন বিরোধী অপতৎপরতায় সক্রিয় নিষিদ্ধ এনজিও

১২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৩৫

শফিক আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা।  এসব রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার জেলায় ১২টি ক্যাম্প করে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।  ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দিচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা।  রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ স্বীকার করছেন সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিও বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে।  যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত
পাকিস্তানভিত্তিক এনজিও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন (এফআইএফ) নামের এ সংগঠনটির কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিদ্যমান সুসম্পর্কের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি চেষ্টা করছে বলে রোহিঙ্গা নেতারা দাবী করে জানান, ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ১২টি এনজি সংস্থার গোপনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।  তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে রোহিঙ্গা বিভিন্ন আর্থিক অনুদান ও বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  

জানাগেছে, পাকিস্তানের করাচিতে এফআইএফ’র প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।  এ সংস্থাটি উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকজন জামায়াতপন্থী প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় উখিয়ার কুতুপালং, টেকনাফের হোয়্যাইকং ও শামলাপুরে এ তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।  এসব কার্যক্রম চালানোর জন্য তিন ক্যাম্পে তাদের তিনজন জনপ্রতিনিধি সংস্থাটি নিয়োগ করলেও তারা রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে।  

শুক্রবার ক্যাম্পে কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করা হলে তিনিও জানান, লস্করে-ই-তৈয়বার কার্যক্রম চালাচ্ছে কুতুপালং এর এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি।  তবে হাতে নাতে প্রমাণ করতে না পারার কারণে তাকে ধরা যাচ্ছেনা।  তিনি আরো বলেন, আজ না হোক কাল এসব দেশদ্রোহী ব্যক্তিদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ধরতে সক্ষম হবে।  কারণ তাদের পেছনে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স ও রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকেও লোকজন লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।  

কুতুপালং বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুর জানান, বেশ কয়েকদিন আগে লস্করে ই তৈয়বার নামে পাকিস্তান ভিত্তিক এনজিও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন (এফআইএফ) একটি সংগঠন রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে।  গত কয়েকদিন থেকে ওই এনজিও টি উধাও হয়ে গেছে।  তবে তাদের কিছু কর্মী গোপনে ক্যাম্পে কাজ করলেও তাদের সনাক্ত করা যাচ্ছেনা।   

উখিয়ার বালুখালী,কুতুপালং,আঞ্জুমানপাড়া ও নয়াপাড়া রোহিঙ্গাসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে থাকা সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিক ও এনজিও’র গোপন তৎপরতা লক্ষ্য করে গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ৭দফা সুপারিশ করেন।  তৎমধ্যে কোডেক, এমডিএস, মোয়াসসহ ৪টি এনজিও’র বিদেশী কর্মকর্তারা এদেশে ঘণ ঘণ আসা-যাওয়া করে রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক বিষয়কে পুজি করে বায়োমেট্টিক পদ্ধতি গ্রহনে অনিচ্ছুক, ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া রোহিঙ্গা নিরুৎসাহিত করা সহ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিগ্ন সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে।  এমনকি তারা রোহিঙ্গাদের এসব কাজের জন্য নগদ টাকাও গোপনে বিতরণ করছে।  যে কারনে গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহ আরো ঘণিভূত হয়।  যার ফলে সরকার ওই ৪টি এনজিও সহ আরো ১২টি এনজিও’র কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও তারা গোপনে অপতৎরপতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকেই স্বীকার করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করেন।  

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সনজীদা শারমিন স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র অনুযায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১২টি এনজিও সাফ্জ, কালব, ওফকা, জাগরণ, এমপিডিআর, মানবাধিকার, শেড ওয়াশ, টাই বিডি, এসআরপিবি, গ্রামীণ ব্যাংক, লাচুন ও শিলাফ।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান বলেছেন গত ২৯ নভেম্বর থেকে এ উল্লেখিত ১২ এনজিও বিরুদ্ধে ক্যাম্পে কার্যক্রম বন্ধের আদেশ কার্যকর হয়।  

রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, এফআইএফ নামের একটি এনজিওর ছাড়াও বেশ কিছু অনুমোদিত এনজিও কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু ত্রাণ সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণের খবর আমরা পেয়েছি।  তারা অনুমতি কিভাবে পেল কিংবা অনুমতি ছাড়াই তারা কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা এনজিওকে কাজ করতে দেয়া হবে না।  অনুমতিবিহীন কিছু সন্দেহভাজন এনজিওর একটি তালিকা করা হয়েছে।  তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।