১৬, জানুয়ারী, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৯

ভবঘুরে শিশুদের মায়ের আদরে পাঠদান

১২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৩৮

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পারইল ইউনিয়নের একটি গ্রাম কামতা-ভাণ্ডারগ্রাম।  এই গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায় ও দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান করার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে আজাহারুল ইসলাম মৃধা পাঠদান কেন্দ্র।  এই পাঠদান কেন্দ্রে প্রাক্‌-প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান করানোসহ শিক্ষার সব উপকরণ দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি।  দিনমজুরের ঘরের সন্তানরা পরিবারের
উদাসীনতার কারণে বিদ্যালয়ে না গিয়ে ভবঘুরে দিন কাটায়।  এসব শিশু ও তার বাবা-মাকে বুঝিয়ে বিদ্যালয়মুখী করার উদ্দেশ্যে প্রাক্‌-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাদান করানো হয় মরহুম আজাহারুল ইসলাম মৃধা পাঠদান কেন্দ্রে।  রফিজান প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ২০১৬ সালে গড়ে তোলা হয়েছে এই পাঠদান কেন্দ্রটি।  বর্তমানে এই কেন্দ্রে ৩০ জন দরিদ্র ও অসহায় শিশু প্রতিদিন প্রাক্‌-প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ গ্রহণ করছে।  একজন শিক্ষিকা মায়ের ভালোবাসা দিয়ে পাঠদান করান এই কেন্দ্রে আসা শিশুদের।  এখানে পাঠ গ্রহণ শেষ করে শিশুরা খুব সহজেই মূল ধারার প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশ করতে পারবে।  বিগত বছরে এই কেন্দ্র থেকে প্রাক্‌-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করে ৩০ শিশু বর্তমানে কামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। 

শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে নয়, এখানে শিশুদের আরবি, নূরানি কোরআন ও নামাজ শিক্ষাও দেওয়া হয় বিনামূল্যে।  এ পর্যন্ত এই কেন্দ্র থেকে ১৫ শিশুকে নূরানি কোরআন শিক্ষা দিয়ে তাদের হাতে কোরআন তুলে দেওয়া হয়েছে।  শিশুদের পাশাপাশি এলাকার অনেক বয়স্ক মানুষও এই কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে।  এই সংস্থা এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।  বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বছরে একাধিকবার আয়োজন করা হয় ফ্রি চিকিৎসার।  এলাকার প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই সংস্থার নামে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে রফিজান প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়।  বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে এলাকার শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে।  এখন আর এই গ্রামে সকালে কোনো শিশুকে রাস্তায় কিংবা কোনো উঠানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় না।  সকালে শিশুদের বইয়ের ব্যাগ নিয়ে এই শিক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। 

রফিজান প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. আফজাল হোসেন বলেন, তএই গ্রাম ও তার আশপাশের গ্রামগুলোতে অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বসবাস।  যাদের অধিকাংশই দিনমজুর।  এসব পরিবারের অনেকেই সন্তানকে বিদ্যালয়মুখী না করে শিশু বয়সেই সন্তানদের অর্থ আয়ের পথে নিয়ে যায়।  আবার অনেকে সামর্থ্য না থাকার কারণে সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারেন না।  এসব অবহেলিত মানুষের কথা চিন্তা করে তিনি মায়ের নামে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। 

রানীনগর ইউএনও সোনিয়া বিনতে তাবিব বলেন, 'এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ।  সরকারের একার পক্ষে সমাজকে আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।  এ রকম মানুষ এগিয়ে এলে সমাজকে অতি সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব।  সরকারের কোনো সহযোগিতা যদি আফজাল সাহেব নিতে চান তাহলে তাকে তা দেওয়া হবে। '