২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

২০১৮ বিশ্বকাপ, নেইমার ও ব্যালন ডি অর

১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:২৯

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগেই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকার তকমাটা গায়ে লাগিয়েছিলেন নেইমার।  ইনজুড়িতে পড়ে ট্রুনামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার আগে পর্যন্ত চারটি গোল করেছিলেন তিনি।  খেলেছিলেন দুর্দান্ত।  কিন্তু ইনজুড়িতে পরেই স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায় তার।  তারপর সেমিফাইনালে ব্রাজিলের অমন হারটা দেখেছিলেন গ্যালারিতে বসে।  যুবক বয়সেই এমন কঠিন মুহুর্ত পার করেছিলেন নেইমার। 

এখন ২০১৮ সাল।  সেই নেইমারের তুলনায় এই নেইমার এখন অনেক পরিনত।  তার মুল্যটাও
এখন হয়েছে অর্ধ বিলিয়ন ইউরো।  ফুটবল বিশ্বে বর্তমানে সবচেয়ে আলোড়িত তারকা। 

নেইমারকে ভাবা হচ্ছিল মেসির বিকল্প।  কিন্তু নেইমার মেসির বিকল্প হয়ে থাকতে চায়নি।  সে চেয়েছে নিজের আলোয় আলোকিত হতে।  আর সেজন্যই বার্সা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিল পিএসজিতে।  নিয়েছে অন্যরকম এক চ্যালেঞ্জ।  পিএসজিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতানোর মিশন এবং নিজে ব্যালন ডি অর জয়ের মিশন। 

বয়স ২৫ বছর।  চ্যালেঞ্জন নিচ্ছেন নতুন।  বিশ্বের সেরা খেলোয়ার হওয়ার চ্যালেঞ্জ।  এই সময়ের সেরা হওয়ার চ্যালেঞ্জ।  অনেকেই বলেন, মেসি-রোনালদোর পরে নেইমারই হবেন না।  কিন্তু অত ধৈর্য্য নেই তার।  তাইতো সেরা হতে প্রস্তুত তিনি।  আর সেই লক্ষ্যেই বার্সা থেকে রেকর্ড মুল্যে পাড়ি জমিয়েছেন পিএসজিতে।  আর পিএসজি নেইমারকে সুযোগ করে দিয়েছে মেসি-রোনালদো যুগের অবসান ঘটাতে। 

পিএসজি লিগে আছে দুর্দান্ত ফর্মে।  ৯ পয়েন্ট এগিয়ে আছে দুই নম্বরে থাকা দলটির থেকে।  বলাই যায়, লিগ শিরোপা পাচ্ছে তারাই।  তবে একটা জিনিস তাদের মিসিং।  সেটা হল চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।  চলতি ট্রুনামেন্টে সঠিক পথেই আছে তারা।  শুধু প্রবলেম হল শেষ ষোলতে তাদের সামনে পড়ে গেছে হেভিওয়েট রিয়াল মাদ্রিদ। 

চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুম সরাসরি ৬টি গোল করেছেন নেইমার।  অ্যাসিস্ট করেছেন ৩টিতে।  গ্রুপ পর্বে বায়ার্নকে হটিয়ে শীর্ষে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে পিএসজি।  আর শেষ ষোলতে এবার তাদের মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ।  বর্তমানে অফ ফর্মে থাকা রোনালদো এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে অবশ্য জয়ের দারুন সুযোগ আছে পিএসজির।  আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অবশ্যই রোনালদো থেকে এগিয়ে যাবে নেইমার।  কারন পিএসজির কাছে হারলে সেরা খেলোয়ার হওয়ার দৌড়ে একেবারের ছিটকে যাবে রোনালদো।  এরপর সামনে থাকবে শুধু বার্সার মেসি।  আর শেষ পর্যন্ত বার্সাও যদি চ্যাম্পিয়নস লিগে ছিটকে পড়ে তাহলে তো শুধু নেইমারই। 

রাশিয়া বিশ্বকাপ এবার নেইমারদের পরীক্ষা নিবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।  আর বিশ্বকাপ পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গাও বলা যায়।  এই মুহুর্তে বিশ্বকাপে নেইমারের গোল ৪টি।  সামনে আছে রোমারিও ৬ ও রোনালদো ৯ টি।  একই সাথে পেলের থেকে ২৪ গোল পিছিয়ে আছে নেইমার ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোল দাতা হওয়ার তালিকায়।  যদি বয়সের কথা হিসাব করা হয় তাহলে নেইমারের যে ফর্ম তাতে কোন সন্দেহ ছাড়াই পেলের রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলবে সে।  কিন্তু যদি গ্রেট লিজেন্ড হতে চায় তাহলে নিশ্চই নেইমারকে পেলের পর্যায়ে যেতে হবে।  আর সেখানে যেতে হলে যে প্রয়োজন বিশ্বকাপ ট্রফি জয়। 
 
যদি নেইমার বিশ্বকাপ জিতে ২০১৮ সালে, তাহলে কোন সন্দেহ ছাড়াই সে ব্যালন ডি অর জিতবে।  এবং মেসি রোনালদোর যুগে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি সেটাই করে দেখাবে নেইমার।  আর অঘোষিত ঘোষনা দিয়ে রাখবে ফুটবল বিশ্বে নতুন রাজার আগমনী।  কারন, তখন যে মেসি-রোনালদোর রাজত্ব শেষ হবে তার কাছেই। 

মেসি এবং রোনালদো টানা ১০ টি বছর ধরে একই ভাবে নিজেদের ফর্ম ধরে রেখেছে।  দুজনের বয়সই এখন ৩০ এর উপরে।  এরপরও হয়তো মেসির আরো জাদু বাকি আছে।  হয়তো সে আরো জাদু দেখাবে।  রোনালদো হয়তো আরো গোল করেই যাবে।  গোলের হয়তো আরো রেকর্ড করবে।  কিন্তু বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোড়িত ফুটবলার সেই নেইমারই।  যখন ২০১৮ বিশ্বকাপ উপস্থিত হবে, যখন ব্রাজিল মাঠে নামবে, তখনই এই বিষয়টি হয়ে যাবে অনস্বীকার্য। 
 
বিশ্ব ফুটবলে মেসি রোনালদো হল টেনিসের রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালের মত।  এটা হতে পারে মোহাম্মদ আলী বনাম ফ্রাজিয়ের।  অথবা এটা হতে পারে জনসন বনাম লেরি বার্ড।  এই দুই সেরা তারকার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা এই প্রজন্মে ফুটবলকে আরো বড় করে তুলেছে।  কিন্তু কোন কিছুই চির স্থায়ী নয়।  নেইমারই একমাত্র ব্যক্তি যিনি মেসি রোনালদো থেকে এই আলো কেড়ে নেয়ার যোগ্য। 

তাই ২০১৮ সালই হয়তো হতে যাচ্ছে সেই সময় যেখানে বিশ্বফুটবলের দুই নক্ষত্রকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছেন নেইমার।