১৬, জানুয়ারী, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৯

‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে শেষ হলো ইজতেমার প্রথম পর্ব

১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:২৮

লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে।  মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য,  দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি এবং দেশের কল্যাণ কামনা করা হয় মোনাজাতে।  আখেরি মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়।  লাখ লাখ মুসল্লির কণ্ঠে ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’, ধ্বনিতে মুখরিত হয় টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দান।  এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইজতেমার প্রথম পর্ব। 

রবিবার
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু হয়।  এবারের মোনাজাত হয়েছে বাংলায়।  পরিচালনা করেছেন কাকরাইল মসজিদের হাফেজ মাওলানা জোবায়ের।  এর আগে হেদায়তি বয়ান করেন মাওলানা আব্দুল মতিন।   

কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বাস,  ট্রাক,  ট্রেন,  নৌকা-লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে হাজার হাজার মুসল্লি টঙ্গীতে জমায়েত হন।  আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত ছিল। 

ইজতেমাস্থলে পৌঁছাতে না পেরে অনেক মুসল্লি আখেরি মোনাজাতের জন্য খবরের কাগজ, পাটি, বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে সড়কে, অলি-গলিসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। 

মোনাজাতের সময় ইজতেমা ময়দান ও আশেপাশের এলাকায় নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।  খানিক পর পর শুধু ভেসে আসে আমিন, ছুম্মা আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনি।  আর মানুষের কান্নার আওয়াজে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।  আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় আঁকুতি জানান মুসল্লিরা।  মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করেন তারা। 

নানা বয়সী বিভিন্ন পেশার মানুষের পাশাপাশি নারীদেরও মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়।  এমনকি বাসা-বাড়ি ও কারখানার ছাদ,  নৌকা,  বাসের ছাদ,  ফুটওভার ব্রিজ-যে যেখানে পেরেছেন সেখানে বসেই দু’হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নেন তারা। 

গণভবন থেকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী

আখেরি মোনাজাতে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গুলশানের কার্যালয় থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অংশ নেন।  ইজতেমা ময়দানে মূল মঞ্চে বসে আখেরি মোনাজাতে শরিক হন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা। 

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি।  ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার আসর। 
 
৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু হয়েছে।  বেলা পৌনে ১১টায় শুরু হয় মোনাজাত।  তুরাগ নদীর তীরে লক্ষাধিক মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। 

ভারতের মাওলানা সাদ কয়েক বছর ধরে ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করলেও এবার তাঁর পরিবর্তেকাকরাইল মসজিদের ইমাম ও তাবলিগের শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছেন।  এ উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 
মোনাজাতে অংশ নিতে ময়দান ও আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন লাখো মুসল্লি।  আশপাশে থাকা দালান-কোঠার ছাদেও নারী-পুরুষসহ অনেক মুসল্লিকে মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। 

আখেরি মোনাজাতের আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হয় বয়ান।  ভোর থেকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ময়দানে উপস্থিত হন লাখো মুসল্লি। 
টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শুরু হয়েছে।  ইজতেমার মূল মঞ্চ থেকে আশপাশের সব জায়গা মুসল্লিদের আগমনে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।  মানুষ অবস্থান নিয়েছে রাজপথসহ আশপাশের বাসাবাড়ির ছাদে। 

বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হজরত মাওলানা যোবায়ের হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছেন। 

ইজতেমা ময়দানে বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মঞ্চ থেকে এ মোনাজাত পরিচালনা করা হচ্ছে।  এর আগে অনুষ্ঠিত হয় হেদায়েতি বয়ান। 
এবারের ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জিকির-আসকার, ইবাদত বন্দেগি আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র কোরআনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। 

এই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। 

এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে আগামী শুক্রবার শুরু হবে তিনদিনের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।  আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের আসা ও যাওয়া নিরাপদ করতে শনিবার দিবাগত রাত থেকে মোনাজাত অনুষ্ঠান পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানগামী সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ।  এদিকে এবারও বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। 

আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা ১১ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হবে।  শুক্রবার রাতে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ মুরুব্বিদের এক পরামর্শ সভায় ওই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। 

বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এবং চারদিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।