২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিশাল পরিবর্তন আসছে রিয়াল মাদ্রিদে!

১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৪:৩১

নাহ, আর সহ্য করা যায় না।  ক্লাবের সম্মান দিন দিন কমছে।  এভাবে হারতে থাকলে ক্লাবের সুনাম নস্ট হতে থাকবে।  এভাবে আর চলতে পারেনা।  এবার এর থেকে পরিত্রান পাওয়া দরকার।  সমাধানে আসা দরকার।  ক্লাবকে আবারো তার কক্ষপথে ফেরানোর জন্য কাজ করা দরকার। 

হ্যা, এটাই এখন রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি পেরেজের কথা।  ক্লাবের দুর্দশা থেকে বাঁচতে এখন কিছু পরিবর্তন করার চেয়ে আর কোন উপায়ই খোলা নেই রিয়ালের সামনে।   কিন্তু কথা হচ্ছে কি সেই পরিবর্তন?

স্পানিশ লা লিগায়
একের পর এক হতাশাজনক ম্যাচ শেষ হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের।  কোনটা  ড্র তো কোনটা হার।  এভাবেই চলছে রিয়াল মাদ্রিদের পথ চলা।  শিরোপা রেশ থেকে তো ছিটকেই পড়েছে।  এতটাই ছিটকে পড়েছে যে শিরোপাটা এখন আর দু:স্বপ্নেও দেখা হবে না রিয়াল মাদ্রিদের।  অন্তত অলৌকিক কিছু না হলে তো মোটেও না।  কারন, অলৌকিক কিছুর কারনে না হয় বার্সালোনা পিছিয়ে যাবে।  কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের সামনে তো আরো দুটি দল আছে।  অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও ভ্যালেন্সিয়া।  এই দুটি দলও কি অলৌকিক ক্ষমতার বলে পিছিয়ে যাবে।  অলৌকিক ক্ষমতাও নিশ্চই এতটা অলৌকিক কাজও করে না!

সামনে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগ।  এমনিতেই দুর্দশার অন্ত নেই।  সেখানে আবার বিষ ফোড়া হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলতে সামনে পড়ে আছে পিএসজি।  বর্তমানে ইউরোপে সবচেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন দল গুলোর একটি পিএসজি।  পিএসজি হয়তো শেষ ষোলতেই রিয়ালকে আশা করেনি।  তবে তার চেয়েও বেশি নিশ্চই পিএসজিকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ।   কারন এই সময়ে পিএসজির মুখোমুখি হওয়া মানে আগুন হাতে দৌড়ানো সেটা তো বুঝাই যায়। 

তবে লা লিগা হাতছাড়া হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে সবকিছু পুষিয়ে নেয়ার জন্য একটা সুযোগ পাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ।  সেটা হল দলকে শক্তিশালী করা।  আর সেই শক্তিশালী করতে হবে এই জানুয়ারীতেই।  কারন জানুয়ারীর ৩১ তারিখেই যে দলবদলের দরজা যাবে বন্ধ হয়ে। 

তাহলে এখন কি করবে রিয়াল মাদ্রিদ? স্পানিশ গনমাধ্যম গুলোর খবর, বরখাস্ত হতে পারেন জিদান।  কারন, তার কারনেই আজকে রিয়ালের এই অবস্থা বলেই মনে করেন অনেকে।  কারনও আছে।  সেটা হল বেনজামা প্রীতি দেখাতে গিয়ে মোরাতার মত ফর্মে থাকা তারকাকে বিক্রি করা এবং জেমস রদ্রিগেজকে ছেড়ে দেয়া।  পেপের মত সিনিয়র ডিফেন্ডার বেচার পরও কোন রিপ্লেস না কেনা।  সবকিছুই এখন যাচ্ছে জিদানের বিপক্ষে। 

তবে কিছুদিন আগে জিদান বলেছেন, রিয়ালের সাথে তার ২০২০ সাল পর্যন্ত চুক্তি হয়েছে।  এদিকে পেরেজও নাকি জিদানকে বলেছে, তুমি যতদিন খুশি থাকতে পারো এই ক্লাবে।  তাহলে বাকি রইল প্লেয়ার কেনা বেচা।  তাহলে কাকে কিনবে আর কাকে বিক্রি করবে?

স্পানিশ ও ইংলিশ মিডিয়া গুলোর খবর, রোনালদোকেই বিক্রি করে দিতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ।  তার পরিবর্তে রিয়াল মাদ্রিদে আসবে নেইমার।  এদিকে নেইমারের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ইউরো নাকি খরচজ করতে প্রস্তুত ম্যানইউ।  তবে মরিনহো বলেছে, যদি সানচেজকে কিনতে পারে তাহলে বড় কোন অংকের টাকা খরচ করবে না তারা।   তাছাড়া নেইমারের স্বপ্নের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ।  তাই ম্যানইউ এখানে আসতে চাইলেও অন্য দু্ পক্ষের ইচ্ছার কারনে টিকতে পারবেনা সেটা বলাই যায়। 

তবে এটাও শোনা যাচ্ছে যে, রিয়াল মাদ্রিদ এখনই নেইমারকে জোড় করবে না রিয়ালে আসার জন্য।   কারন সদ্যই বার্সা থেকে পিএসজিতে গিয়েছে নেইমার।  সেখানে ক্লাবটির হয়ে কিছু দিতে চান নেইমার।  সেটা হতে পারে অধরা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।  একই সাথে পিএসজির হয়েই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়তে চান নেইমার।  তাই নেইমারের জন্য ২০১৯ সাল অর্থাৎ আগামী মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি রিয়াল মাদ্রিদ। 

এদিকে জিদানের আস্থার পাত্র বেনজামার উপর নাখোশ পেরেজ।  তাই তাকে বিক্রি করে তার জায়গায় নতুন তারকা আনতে চান তিনি।  সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য সবচেয়ে এগিয়ে আছেন হ্যারি কেন।  কিন্তু দামের সাথে অসঙ্গতি হওয়ায় এখন রিয়ালের টপ টার্গেট লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ।   তবে এই তারকাকে লিভারপুল ছাড়বে বলে মনে হয় না।   যদি না ছাড়ে তাহলে বিকল্পও ভেবেছে রিয়াল মাদ্রিদ। 

সেটা হল আর্জেন্টাইন তারকা সার্জিও অ্যাগুয়েরু।  ম্যানসিটি যদি আর্সেনাল থেকে সানচেজকে কিনে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই আ্যাগুয়েরুকে ছেড়ে দিবে গার্দিওলা।  আর তার সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ।  যদিও অ্যাগুয়েরু না আসে তাহলে আসতে পারে ইকার্দি।  এই ইন্টার মিলান তারকাকে আনতে আবার রিয়াল মাদ্রিদ তাকে চ্যাম্পিয়নস লিগেও খেলাতে পারবে। 

তবে শুধু ফরোয়ার্ডই নয়, মিডফিল্ডারেও নজর আছে রিয়াল মাদ্রিদের।  তবে সেটাও শুধুই চেলসির বেলজিয়াম তারকা হ্যাজার্ড।  রিয়াল মাদ্রিদে আসার জন্যই নাকি চেলসির সাথে নতুন চুক্তি করছেনা হ্যাজার্ড।   তবে হ্যাজার্ড, হ্যারি ও নেইমার - এই তিন তারকায় আবার সমস্যায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।  কারন, তিন জনই নিজ নিজ দলের সেরা তারকা।  তাই তারা যখন রিয়ালে আসবে তখন এখানেও শীর্ষস্থানটাই চাইবে।  সে ক্ষেত্রে নেইমার থেকে পিছিয়ে যায় হ্যাজার্ড ও হ্যারি কেন।  কারন, জিদানের হ্যাজার্ডকে পছন্দ হলেও পেরেজের পছন্দ নেইমার।  এবং পেরেজ চান রোনালদোর পরে ক্লাবের দায়ীত্ব নেইমারের কাধেই থাকুক।  নেইমারই পারবে রোনালদোর পর রিয়াল মাদ্রিদকে সঠিক ভাবে সঠিক পথে নিয়ে যেতে। 

সমস্যা আছে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্সেও।  ভারানে ও সার্জিও রামোস ছাড়া ভালো কোন সেন্টারব্যাক নেই  রিয়াল মাদ্রিদের।  আর প্রতিনিয়তিই রিয়াল মাদ্রিদের গোল খাওয়া এটা আরো স্পষ্ট করে দেয় যে জিদানের দলে বর্তমানে ডিফেন্সের অবস্থা শোচনীয়।  আর এই ডিফেন্স সমস্যা সমাধানের জন্য পেরেজ হয়তো প্লেয়ার কেনার জন্য প্রস্তুত।  কিন্তু জিদানের একটা বাক্যই সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছে যে, আমার স্কোয়াডে যারা আছে তাদের নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।  আমি কোন প্লেয়ার কিনতে চাইনা। 

অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের গোলবারের নিচে কেইলর নাভাসেও ভরসা কমছে দিন দিন।  সেজন্য তার জায়গায় নতুন গোলকিপারও কিনতে চাচ্ছে তারা।  চোখ আছে কার্তুইস,  কেপা ও অ্যালিশনর দিকে। 

তবে নতুন একটি খবর হতে পারে সবচেয়ে চমকপ্রদ।  সেটা হল, সামনেই বিশ্বকাপ।  তাই বিশ্বকাপের আগে অর্থাৎ এই জানুয়ারীতে কোন প্লেয়ার কিনবেনা রিয়াল মাদ্রিদ।  তবে সেজন্য জিদানের চাকরিটা হয়তো নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।  কিংবা জিদান যদি পেরেজকে বুঝাতে পারে তাহলে হয়তো পেরেজও একটা মৌসুমের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে বিশ্বকাপের পর নতুন ভাবে দলকে সাজিয়ে দিতে পারে জিদানের হাতে।