২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

তামিমির মুক্তির দাবিতে উত্তাল ফিলিস্তিনসহ সারাবিশ্ব

১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩৬

ইসরায়েলি সেনাকে থাপ্পড় মেরে জাতি মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা ১৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু আহেদ তামিমির মুক্তির দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিন।  এমন দুঃসাহসিকতা দেখানোয় মা-সহ তাকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি সেনারা।  এরইমধ্যে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে।   তামিমি হাশারোন কারাগারে আটক আছে। 

শনিবার তার মুক্তির দাবিতে সংঘটিত বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।  তবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ফিলিস্তিনি
জাতি-মুক্তির লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।   

তামিমির মুক্তির দাবি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী।  ১৬ বছরের ওই শিশু হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি আন্দোলন ও তৃতীয় ইন্তিফাদার প্রতীকী চরিত্র।  ফিলিস্তিনি ও ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের সমর্থকদের কাছে ‘ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের নারী নেত্রী’ স্বীকৃতি পেয়েছে তামিমি। 

আহেদ তামিমির আইনজীবী গাবি লাস্কি জানান, রামাল্লার কাছে ইসরায়েলের অফার সামরিক আদালতে শুনানি চলাকালে আহেদের বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ আনা হয়।  এরমধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি সেনাকে লাঞ্ছিত করা, তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াসহ আগের পাথর ছোড়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।  গতকাল শনিবার দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত ফিলিস্তিনি আহেদ তামিমির গ্রাম নবী সাহতে জড়ো হন।  তারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি আহেদ ও তার মায়ের মুক্তি দাবি করেন। 
 
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার ঘণ্টা খানেক আগেই ইসরায়েলি বাহিনী নবী সালেহ গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান নেয়।  তারা অনেক বিদেশি আন্দোলনকারীসহ সাংবাদিকদের গ্রামে প্রবেশে বাধা দেয়।  অনেক ফিলিস্তিনিকে তারা ফেরতও পাঠায়।  বিক্ষোভকারীরা প্রথমে অবৈধ হালামিস বসতির কাছের একটি পাহাড়ের দিকে যেতে থাকে।  নবী সালেহ গ্রামের কয়েকশ হেক্টর জমি দখল করে বসতিটি স্থাপন করেছে ইসরায়েল।  পরে তারা নবী সালেহ গ্রামে প্রবেশমুখে স্থাপন করা ইসরায়েলি তল্লশি চৌকি ও সামরিক টাওয়ারের দিকে অগ্রসর হন।  তাদের থামানোর জন্য ইসরায়েলি বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।  এতে অনেকেই গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের শিকার হন।  সে সময় রাবার বুলেটের আঘাতে কমপক্ষে সাত বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অনেক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে বিক্ষোভ হয়ে থাকে।  ইসরায়েলের কারাগারে অনেক দিন বন্দি থাকা বাসেম তামিমি আহেদ তামিমির বাবা।  শনিবারের ওই বিক্ষোভে তিনি পরিষ্কারভাবে বলে দেন, দখলদারিত্বের মুখে ফিলিস্তিনিরা চুপ বসে থাকবে না। 

আহেদ তামিমি ও তার মা নারিমানের সঙ্গে দেখা করতে চান বাসেম নামের এক ফিলিস্তিনি।  তবে অনুমতি মেলেনি তার।  বাসেম আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমার কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা আছে।  এটা কেমন তা আমি জানি।  তারা এখন কেমন আছে আমি তাও জানি।  কিন্তু একই সঙ্গে আমি তাদের নিয়ে গর্বিত। ’ তামিমি পরিবারের আরেক সদস্য মানাল তামিমি।  এক আত্মীয়কে গ্রেফতারের প্রতিবাদ করার সময় গত মাসে তাকেও আটক করা হয়েছিল।  তিনি বলেন, ইসরায়েলকে দেখানোর জন্য আমাদের এমন আন্দোলন প্রয়োজন।  তাদের বোঝাতে হবে, ‘কোনভাবেই আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। ’

কয়েকবার গ্রেফতার হওয়া মানাল বলেন, প্রায় এক দশক ধরে অহিংস প্রতিরোধের কারণে ইসরায়েলি বাহিনী অন্য গ্রামগুলোকে নবী সালেহ থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছে।  তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘তারা যদি আমাদের শিশু ও নারীদেরও গ্রেফতার করে আমরা দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।  আমরা এটা পরিষ্কার করতে চাই যে, তারা আমাদের যতই অত্যাচার করবে ফিলিস্তিনিরা ততই আন্দোলনে শামিল হবে। ’

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আহেদের ১১ বছর বয়সী খালাত বোন জান্না জিহাদ অংশ নেয়।  তাকে ফিলিস্তিনের সর্বকনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।  সে আল জাজিরাকে বলেছে যে, সে তার ‘সেরা বন্ধু’ আহেদকে মিস করছে।  জিহাদ বলে যে, তরুণ ফিলিস্তিনিদের মনোবল ভাঙার জন্যই ইসরায়েল নবী সালেহ গ্রামের শিশুদের লক্ষ্য বানিয়েছে।  সে আরও বলে, ‘তারা জানে ফিলিস্তিনের জন্য লড়াই করার জন্য আমরাই পরবর্তী প্রজন্ম। ’