২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

ঘরের মাটিতে ভারত, বিদেশের মাটিতে ভারত....

১৭ জানুয়ারী ২০১৮, ০৫:২৭

দেশের মাটিতে ভারত মানেই অন্য কোন দলের জয়ের সুযোগ সেখানে বেশি হলে ৫ শতাংশ।   বাকি ৯৫ শতাংশটি সম্ভাবনা থাকে ভারতের।  আর নিজেদের মাটিতে শেষ কবে সিরিজ হেরেছে সেটাও মনে হয় ভুলতে বসেছে ভারত।  তবে দেশের বাইরে ঠিক বিপরীত অবস্থা তাদের।  বিশেষ করে  উপমহাদেশের বাইরে হলেই ভারতকে আর চেনাই যায় না।  তখন যেন হারিকেন নিয়ে খোজা লাগে ভারতকে। 

ইদানিং দুর্দান্ত ফর্মে ছিল ভারত।  তবে সেটাও ঘরের মাটিতে।  আর তাদের এমন ফর্মের কারনেই আফ্রিকার মাটিতে ২৫ বছরের
লজ্জার ইতিহাসের শেষটা দেখেছিলেন অনেকেই।  কিন্তু কিসের কি।  উল্টো আগের ইতিহাসেরই পূনরাভৃত্তিই ঘটে চলছে।   আফ্রিকান পেসারদের সামনে রীতিমত পাড়ার ব্যাটম্যানে পরিণত হয়েছে ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ। 

প্রথম দুটি ম্যাচের দিকে তাকালেই ভারতের ব্যাটিংয়ের অব্স্থা বুঝা যায়।  প্রথম টেস্টে আফ্রিকার করা ২৮৬ রানের জবাবে নিজেরা অল আউট হয়েছে ২০৭ রানে।  দলের একমাত্র হার্ডিক পান্ডেয়া  ৯৩ রান করেছেন।  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান।  তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেছে ঋদ্ধিমান সাহা।  ২০৯ রানের মধ্যে ১৪৪ রান এই তিনজনেরই।  বাকি ৮জন মিলে করেছে ৬৫ রান। 

দ্বিতীয় ইনিংসে তো আরো করুণ অবস্থা।  এবার স্বাগিতক পেসারদের দাপটে মাত্র ১৩৫ রানেই শেষ বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন আপ দাবী করা ভারত।  এদিন তো সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেছেন অশ্বিন।  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান এসেছে কোহলির ব্যাট থেকে। 

দ্বিতীয় টেষ্টে ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল।  কিন্তু তার মাঝেও ছিল যথেষ্ট চিন্তার ছাপ।  কারন, আফ্রিকার ৩৩৫ রানের জবাবে ভারত ৩০৭ রান করলেও এক কোহলিই করেছেন ১৫৩ রান।  আর বাকিরা সবাই মিলে করেছেন ১৫৪ রান।   এখানে রান পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসী হলেও বাকিদের ব্যাটিং ব্যর্থতা ভাবনার ছিল কোহলির জন্য।  আর সেটাই হল দ্বিতীয় ইনিংসে। 

১৫১ রানেই অল আউট হল ভারত।  অভিষিক্ত পেসার এনগিদিই নিল ৬ উইকেট।  দলের সবচেযে বেশি ৪৭ রান এল রোহিতের ব্যাট থেকে।  আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান করল ৯ নম্বরে থাকা সামি।  এ থেকেই বুঝা যাচ্ছে কোথায় আছে বিখ্যাত ব্যাটিং লাইন আপ। 

নিজেদের মাটিতে ভারতের ব্যাটসম্যানদের যেখানে আউট করাই কঠিন, সেখানে ১৩৫ ও ১৫১ রানের দুটি ইনিংস চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভারতীয়দের দেখাচ্ছে দেশের মাটিতে তারা বাঘ হলেও দেশের বাইরে তারা এখনো সেই পর্যায়ে পৌছতে পারেনি।