১৯, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সোমবার | | ৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

পাঁচ সিইও’র ৪ দিনের বেতন বাংলাদেশি একজন পোশাক শ্রমিকদের আজীবনের আয়

২২ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:৫৩

গত বছর বিভিন্ন উপায়ে আহরিত সম্পদের ৮২ শতাংশই জমা পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষদের কোষাগারে।  অথচ সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তিরা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ। 

বেসরকারি সংস্থার আন্তর্জাতিক সংগঠন অক্সফামের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। 

অনুসন্ধান করে অক্সফাম জানতে পেরেছে, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকেরা সারা জীবনে যা আয় করেন, বিশ্ববিখ্যাত পাঁচটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা তা আয় করেন মাত্র
চার দিনে। 

ক্রেডিট সুইসের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অক্সফাম ‘রিওয়ার্ড ওয়ার্ক, নট অয়েলথ (কাজকে পুরস্কৃত করুন, সম্পদকে নয়)’ এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। 

ক্রেডিট সুইস সুইজারল্যান্ডের একটি বহুজাতিক গোষ্ঠী যারা একটি ব্যাংক পরিচালনাসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা প্রদান করে থাকে। 

অক্সফামের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ধনীদের সম্পদের পরিমাণ ২০১০ সালের পর সাধারণ কর্মচারীদের তুলনায় ছয়গুণ বেশি গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এছাড়াও মার্চ ২০১৬ থেকে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত প্রতি দুই দিনে একজন করে ধনী ব্যক্তি বিলিয়নেয়ার বা শতকোটি ডলারের মালিকে পরিণত হয়েছেন। 

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেন, ‘বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির লক্ষণ নয়, বরং ব্যর্থ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিচায়ক। ’

বিয়ানিমা বলেন, ‘যারা আমাদের কাপড় তৈরি করে, ফোন বানায়, এবং খাবার উৎপাদন করে তাদেরকে এমনভাবে শোষণ করা হচ্ছে, যেন সস্তায় বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ বজায় থাকে এবং করপোরেশন ও বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারীদের মুনাফাও বাড়তেই থাকে। ’

অক্সফামের প্রতিবেদনে ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে পার্থক্যকে আরও বাড়িয়ে তোলার জন্য কর ফাঁকি দেয়া, নীতিনির্ধারণে ফার্মগুলোর প্রভাব, শ্রমিকের অধিকার খর্বকে দায়ী করা হয়েছে। 

গত পাঁচ বছর ধরে অক্সফামের প্রতিবেদনে বার বার এমন কথাই উঠে এসছে।  ২০১৭ সালে তারা জানিয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী আট ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ পৃথিবীর অর্ধেক দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর সম্পদের সমান। 

সূত্র: পরিবর্তন