১৯, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সোমবার | | ৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

বিএনপির ভারপ্রান্ত চেয়ারপারসন হলেন তারেক রহমান

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৪:৫৯

খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সরকার কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানোয় বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করবেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তারেক রহমানকেও ১০ বছরের দণ্ড দিয়েছে হাসিনার আদালত।  তবে তিনি দেশের বাইরে থাকায় সেখানে থেকেই দল পরিচালনা করবেন বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন ।  জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলার রায়ে বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের পর দলটি স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানালেন,
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক জিয়াই এখন বিএনপির প্রধান। 

এর আগে আদালতে রওনা দেওয়ার আগে পুত্র তারেক জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ টেলিফোনে কথা বললেন বেগম জিয়া।  আনুষ্ঠানিক ভাবে, বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দিলেন তারেক জিয়ার কাছে।  বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করে।  বেগম জিয়ার একজন ব্যক্তিগত স্টাফ জানিয়েছেন, সকালেই শিমুল বিশ্বাস টেলিফোনে তারেক জিয়ার সঙ্গে বেগম জিয়ার কথা বলিয়ে দেন।  পরে বেগম জিয়া তারেক জিয়ার স্ত্রী জোবায়দা রহমান এবং নাতনী জাইমা রহমানের সঙ্গে কথা বলেন।  সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফোনালাপে বেগম জিয়া তাঁর অবর্তমানে দলের নেতৃত্বভার তারেক জিয়াকে দেন।  আবেগপ্লুত বেগম জিয়া তার পুত্রকে বলেন, ‘আমার কি হবে জানিনা, তুমি দলটাকে আগলে রেখো। ’ তিনি নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে আন্দোলন করারও পরামর্শ দেন তারেক জিয়াকে। 

পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়ার পর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরান কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।  সেখানকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ডে-কেয়ার সেন্টারে খালেদা জিয়াকে রাখবে কারা কর্তৃপক্ষ। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।  এছাড়া তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই কোটি টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। 
রায়ের পর বিকাল ৩টার কিছুক্ষণ আগে খালেদা জিয়াকে আদালত প্রাঙ্গন থেকে বের করে কেন্দ্রীয় আদালতের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রায় হওয়ায় রোববারের আগে সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।  এ কারণে ওইদিনের আগে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করা সম্ভব হচ্ছে না। 

রায়ের পর আদালতে উপস্থিত খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট।  রোববারের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তারা। 
খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন , এটি প্রতিহিংসা মুলক রায়।  জনগণ থেকে খালেদা জিয়াকে বিছিন্ন করতে আর রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিতেই এই অশুভ চেষ্টা। 

তিনি বলেন,রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেলেই জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে যাব আমরা।  কারা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হবে।  এজন্য সেখানকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ডে-কেয়ার সেন্টারটি প্রস্তুত করা হয়েছে।