২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

ফিল্মি স্টাইলে তরুণীকে অপহরন

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:২৫

 প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার শাস্তি।  প্রাক্তন প্রেমিকাকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠল যুবকের বিরুদ্ধে।  চলন্ত টোটো থেকে তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।  সোনারপুরের মন্দিরতলা এলাকায় কলেজছাত্রী অপহরণের ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তর খোঁজ চালাচ্ছে। 

শনিবার রাত নটা নাগাদ সোনারপুরের কামরাবাদ থেকে ভৌমিকপার্কে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন আশুতোষ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী।  যে টোটোয় তিনি চেপেছিলেন তাঁর চালক ছিলেন সংকীর্তণ হালদার। 

টোটোচালকের
বক্তব্য, নন্দলাল স্কুলের কাছে বাম্পার থাকায় তিনি গাড়ি আস্তে করেন।  এমন সময় একটি বোলেরো গাড়ি তাঁর পথ আটকায়।  দ্রুত ওই গাড়ি থেকে তিনজন যুবক নেমে আসে।  তাদের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র।  এরপর চালককে বন্দুকে দেখিয়ে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা।  সংকর্তীনবাবু এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে ভয় দেখানো হয়।  কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই তরুণীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।  টোটাচালক ছাত্রীর বাড়িতে বিষয়টি জানান। 

তরুণীর পরিবার জানিয়েছে, প্রসূন রং নামে এক স্থানীয় যুবকের সঙ্গে তাঁদের মেয়ের প্রণয় ঘটিত সম্পর্ক ছিল।  তবে ওই তরুণী জানতে পারেন যে,  যুবকটি একাধিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।  থানায় তার নামে অভিযোগও রয়েছে।  এরপরই তরুণী সম্পর্কে দাঁড়ি টেনে দেন।  যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেও প্রসূন মেয়েক উত্যক্ত করতে থাকে বলে অভিযোগ পরিবারের।  কিছুদিন আগে ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে সে রীতিমতো হুমকি দেয়।  জানিয়ে যায় সম্পর্ক টিকিয়ে না রাখলে গুলি করে মারবে।  সেই সময় সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল মেয়েটির পরিবার।  ছেলেটিকেও থানায় ডাকা হয়।  পুলিশের সামনে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রসূন।  এরপরই এই কাণ্ডে তাকে সন্দেহ করছে মেয়েটির পরিবার। 

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তরুণীর জুতো পেয়েছে।  অভিযুক্ত প্রসূন রংয়ের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।  পাশাপাশি তরুণীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।  অপহৃতর পরিবার জানিয়েছে, পুলিশ তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।  ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ  মেলে কিনা তা দেখা হচ্ছে।  প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের জাল গোটাতে চাইছে পুলিশ।