২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

যে কারণে দীর্ঘ হতে পারে খালেদা জিয়ার কারাবাস

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৫:৫৬

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এবার কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হচ্ছে।  এরই মধ্যে এসব মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা কুমিল্লা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন। 

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নাশকতার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর
সকল নথিপত্র ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। 

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ওই তিনটি মামলায় (নিবন্ধন নম্বর- ৪৩/১৫, ৫১/১৫ ও ৫২/১৫) বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা জামিন নিলেও, দলটির প্রধান খালেদা জিয়া এসব মামলায় জামিন আবেদন করেননি।  তাই আদালত খালেদা জিয়াসহ অনুপস্থিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

এখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে।  ৪টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।  তাই শঙ্কায় বিএনপি।  নির্বাচনে খালেদার অংশ নেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ।  ফলে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে। 

তাঁর বিরুদ্ধে যে চারটি মামলায় এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তা কার্যকর করা হবে।  এই চার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।  খালেদা জিয়াসহ অন্য যেসব নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।  পাশাপাশি ৩০ জানুয়ারি থেকে পুলিশ দেশব্যাপী যে ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছিল, তা অব্যাহত থাকবে।  পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দেশে সহিংসতার যে আশঙ্কা করেছিল পুলিশ, তা হয়নি।  বরং বিএনপি নমনীয় অবস্থানে রয়েছে।  আওয়ামী লীগ ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।  রায়ের পরের পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ভেতরেও একধরনের স্বস্তি রয়েছে।  এভাবে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল থেকে সরে আসবে না ক্ষমতাসীন দল। 

এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা তো চলছেই, এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির আরেকটি মামলা আছে।  নাইকোর মামলাও চলছে।  তাঁর নামে বাস পোড়ানোর মামলার পরোয়ানা আছে।  দুর্নীতির মামলা আছে।  দেখা যাক কী হয়।  কারাবাস দীর্ঘ হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা তাঁদের আপিল করার ওপর ও আদালতের ওপর নির্ভর করবে। 

তবে খালেদা জিয়ার নতুন কোনো মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হবে কি না, এবিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমার জানা নেই। ’

যে ৪টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।  সেগুলো মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ১৫ আগস্ট ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালন এবং বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ মামলাগুলো হয়।