১৯, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সোমবার | | ৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

স্বামী নেশায় মাতাল, পাশের ঘরে অন্য পুরুষের সঙ্গে মত্ত স্ত্রী!

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৭

স্বামীর মদতে ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে রোজগারে নেমেছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপরের মৌসুমী ভট্টাচার্য।  তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ভারতের পুলিশ।  পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকের সূত্র ধরেই বিশ্বনাথের মতো একাধিক বন্ধু তৈরি হয়েছিল মৌসুমীর।  হাইপ্রোফাইল জীবনযাপনের নেশায় তাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা দিনে নিজের বাড়িতে ডেকে রাত কাটাত সে।  স্ত্রীর সঙ্গে অন্যজন রাত কাটালেও তাতে কোনো আপত্তি ছিল না মৌসুমীর স্বামী শান্তনু ভট্টাচার্যর। 
সে বাড়িরই অন্য রুমে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত।  প্রতি সন্ধ্যায় স্ত্রীর কাছে শুধু তার চাহিদা ছিল দামি ব্র্যান্ডের মদের বোতল। 

উল্লেখ্য, ফেসবুক বন্ধু বিশ্বনাথ নাগের সঙ্গে তিন রাত কাটিয়ে অবশেষে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে খুন করেছে মৌসুমী।  এমন সন্দেহে দু’জনেই এখন পুলিশ হেফাজতে।  পুলিস জানিয়েছে, ফেসবুকের প্রোফাইলে সার্চ করে সরকারি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত ওই গৃহবধূ।  নিজে থেকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে শিকার জালে তুলত সে।  ধানবাদের ঝরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বিশ্বনাথ নাগকেও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েই কথার জালে ফাঁসিয়েছিল সুন্দরী মৌসুমী।  হাইপ্রোফাইল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল সিটি সেন্টারের আলাউদ্দিন বীথির ওই বাসিন্দা।  সেই খরচ তুলতেই সে নতুন-নতুন বন্ধুদের আকৃষ্ট করত।  আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য সে প্রায়ই ফেসবুকে নিত্য-নতুন পোজে ছবি আপলোড করত। 

বুধবার রাতে পুলিশ মৌসুমীর বাড়িতে গিয়ে বিশ্বনাথের দেয়া স্কুটি, মোবাইল সহ বেশ কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে।  পুলিস কমিশনার লক্ষ্মী নারায়ন মিনা বলেন, ওদের জেরা করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।  ওরা সবকিছু সঠিক বলছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হবে।  এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পরেও মৌসুমী ওরফে মৌ ভেঙে পড়েনি।  উল্টে সে বিশ্বনাথের মৃত্যুকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দাবি করছে। 

পুলিশকে সে জেরায় জানিয়েছে, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর সে নিজে থেকেই হাই হ্যালো জাতীয় মেসেজ পাঠিয়ে চ্যাট শুরু করত।  নতুন বন্ধু সত্যিই কোনো সরকারি সংস্থা বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কিনা তা কথার ছলে নিশ্চিত হওয়ার পরেই মোবাইল নম্বর আদান প্রদান হতো।  সুযোগ বুঝে ডেটিংয়েও যেত মৌসুমী।  তবে, সম্প্রতি বিশ্বনাথের সঙ্গেই তার সম্পর্ক গভীর হয়েছিল।  সে বিশ্বনাথকে কখনো তার স্বামীর বিজনেস পার্টনার, কখনো আবার কোনো আত্মীয়ের ছেলে বলে পরিচয় দিত। 

শান্তনু ও মৌসুমীর বাড়ির পরিচারিকা জুলি যাদব বলেন, দোতলা ঘরের উপর তলায় দুটি বেডরুম আছে।  একটিতে শান্তনু থাকত।  সেখানে প্রতিদিনই মদের বোতল ও গ্লাস নিয়ে পড়ে থাকত।  অন্য ঘরে অচেনা যুবকের সঙ্গে মৌসুমীকে বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম।  জিজ্ঞাসা করলে আত্মীয় বলে পরিচয় দিত। 

পাড়ার এক গৃহবধূ বলেন, শুধু একজন নয়, প্রায় রাতেই নতুন নতুন ছেলেদের বাড়িতে আসতে দেখতাম।  ওরা কারো সঙ্গে মিশত না।  দামি ব্র্যান্ডেড পোশাক পরা থেকে নিয়মিত পার্লারে যাতায়াত, মৌসুমীর চাল চলনই ছিল অন্যরকম। 

এদিকে, মেয়ের এই পরিণতি হবে তা যেন জানতেন বাবা-মা।  বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের শ্যামপুরে তার বাপেরবাড়িতে গিয়ে দেখা গেল তার বাবা মা অনেকটাই স্বাভাবিক।  তারা বলেন, মেয়ে আমাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করত।  ও যে অন্যপথে চলে গিয়েছে তা আন্দাজ করেছিলাম।