১৯, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সোমবার | | ৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

সরকারের ফাঁদে নয়, বিএনপির ফাঁদে পা দিলো সরকার

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৪:১০

গত বৃহস্পতিবার ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা’র রায় দিয়েছে বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান।  ৬৬২ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি পুরুটা না পরে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পড়ছেন। 

পাশাপাশি এ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানসহ আরও ৫ জনের ১০ বছর করে কারা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে সরকার খালেদার দুর্নীতি মামলার
রায়কে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি ফাঁদ পেতেছিল।  যার কোনোটিতেই বিএনপি পা দেয়নি।  সরকার চেয়েছে- মামলার রায়ের পর বিএনপিকর্মীরা বেপরোয়া প্রতিক্রিয়া দেখাক।  অবরোধ-হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে সহিংস পথ বেছে নিক।  বিএনপি কর্মীরা সে পথ বেছে নিলে সরকার বিভিন্ন মামলা দিয়ে অবশিষ্ট নেতাকর্মীদেরও গ্রেপ্তার করতে পারে। 

মামলার রায়ের দিন সারা দেশে অবস্থান ও কঠিন কর্মসূচির ঘোষণা আবারও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য।  রায়ের আগে-পরে বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মী আটক হয়েছেন।  তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।  এ অবস্থায় বিএনপি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অনেকটা নেতাশূন্য হয়ে পড়েছে।  ফলে বিএনপিও চায়নি খালেদার মামলার রায়ের পর বড় ধরনের কোনো আন্দোলন দিয়ে বাইরে থাকা অবশিষ্ট নেতাকর্মীদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে। 

বিশেষ করে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বিএনপিকে।  সেবারের আত্মঘাতী কর্মসূচির পর বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ করা হয়েছে।  অনেকে গুম-খুনের শিকারও হয়েছেন।  ২০১৪ এর ঘটনার পর জনগণ থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়েছিল বিএনপি।  সরকারও নানা কৌশলে-প্রচার প্রচারণা দিয়ে এ দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

দলীয় সূত্র বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাঠ আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেবে না বিএনপি।  নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিকে জোরদার করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই।  এখনই দলের শক্তি ক্ষয় না করে নির্বাচনের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে বিএনপি।  রায়কে ঘিরে কঠিন কোনো কর্মসূচি দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে, সারা দেশে নেতাকর্মীদের আবারও ধরপাকড় করবে।  এখন গ্রেপ্তার হলে সহজে জামিন হওয়ার সম্ভাবনাও কম।  তাই দলটি আপাতত এক পা পেছনে গিয়ে দলের অভ্যন্তরে ঐক্য ও শক্তি সঞ্চয় করছে। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, নেত্রীর নির্দেশমতো আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি।  তাই বড় কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি।  এটা এই মুহূর্তে আমাদের রাজনৈতিক কৌশল।  তবে বেগম জিয়ার আদালতে যাওয়ার সময় মানুষের যে ঢল ছিল তাতেই বোঝা যায়, বড় যে কোনো আন্দোলনের জন্য মানুষ প্রস্তুত।  কিন্তু আমরা এখনই সে কর্মসূচি দেব না। 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।  এক্ষেত্রে সরকার আদালতকে ব্যবহার করেছে।  এ মামলা আমরা আইনি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করব।