১৯, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সোমবার | | ৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

‘ ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে: বিএনপি

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:৫৪

আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে দূরে রাখতে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে কূটনীতিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা। 

মঙ্গলবার দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড়ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়।  বৈঠকে নেতারা কূটনীতিকদের খালেদা জিয়ার মামলা ছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে সরকারের বাধা
দেওয়াসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন। 

বৈঠকের শুরুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখিত বক্তব্যে বলেন- দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।  এ কারণে বিএনপি নির্দলীয় সহায়ক সরকার ব্যবস্থা চাইছে। 

বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মামলাকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ এবং এটাকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।  মামলার রায়ের পর সরকার প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।  এছাড়া মামলার রায়ের অনুলিপি প্রদান নিয়েও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে জানান বিএনপি নেতারা।  এরপর কূটনীতিকরা নানা বিষয়ে জানতে চান। 

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির একজন নেতা জানান, এবারের বৈঠকটিতে কূটনীতিকদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।  তারা অনেক কিছু জানার চেষ্টা করেছেন।  তারা মনোযোগ দিয়ে সকল বক্তব্য শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন। 

বিএনপি নেতারা কূটনীতিকদের আরও জানান, সরকার এখন ‘একদলীয় শাসন ব্যবস্থা’ চালু করতে চাইছে।  এ সময় বিএনপি নেতারা সারাদেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং তাদের মামলার নথি দেন। 

বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা রিয়াজ রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী, ড. এনামুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বেবী নাজনীন ও তাবিথ আউয়াল। 

জানা গেছে, বিএনপির আমন্ত্রণে বাংলাদেশে অবস্থানরত ২২টি দেশের কূটনীতিকরা এ বৈঠকে অংশ নেন।  এর মধ্যে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, সৌদি আরব, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি দেশের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন।