২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

জাবিতে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালত

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:৪৪

জাবি প্রতিনিধি: ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে এ আলোচনাসভা উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন।  

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ভালোবাসা দিবস আর স্বৈরাচার দিবসের মাঝে পার্থক্য আছে মনে করিনা।  প্রেমিক যেমন ভালবাসার জন্য নিজেকে
ত্যাগ করে ঠিক তেমনই দেশের জন্য বিপ্লবীরা তাদের জীবন উৎসর্গ করে।  অর্থনৈতিক মন-মানসিকতার দেশের মিডিয়াগুলোতে স্বৈরাচার দিবসের চেয়ে ভালবাসা দিবস বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।  যার ফলে আমরা দিনটিকে ভুলে যেতে বসছি।  

অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি ইমরান নাদিম বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন স্বৈরাচার এরশাদ।  এরপর স্বৈরাচারী এই শাসকের একের পর এক নির্যাতনের শিকার হয় এদেশের জনগণ।  এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলো জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন, দীপালীসহ আরো অনেকে।  কিন্তু আজ আমরা বিদেশি সংস্কৃতির ভীড়ে নিজেদের সেই ইতিহাস ঐতিহ্যকে ভুলে যেতে বসেছি।  

অনুষ্ঠানের সহযোগিদের মধ্যে থেকে মশিউর রহমান জানান, আজকে আমরা যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে শিক্ষার সুফল পাচ্ছি, যাদের মাধ্যমে এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে তাদেরকেই সচরাচর প্রোগ্রাম আর দিবসে ভীড়ে আমরা ভুলতে যাচ্ছি।  এই দিবসটি ভালবাসা দিবসের বিপরীতে নয় বরং একই সাথে স্বৈরাচার দিবসটিও পালন করে তাদের স্মরণ করে সকলের মাঝে সচেতনতা তৈরী করতেই আমরা এই আয়োজন করেছি।  

আলোচনা সভা শেষে কেন্দ্রীয় উদীচীর পরিবেশনায় গণসংগীত, "ভাটিয়াল শহুরে" গানের দল ও জাবি সংস্কৃতি সংসদের পরিবেশনায় স্বৈরাচার বিরোধী বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন।  

এসময় বিশ^বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ শেখ মনজুরুল হক, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, অধ্যাপক স্বাধীন সেন, সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ, মাশরুর শাহিদ হোসাইন ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।