ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রয়োজনে আমরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত: জামায়াতে আমির ট্রাম্প মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন, পদচ্যুতি দরকার: সাবেক সিআইএ পরিচালক লেবানন-ইরানে হামলাকে তুরস্কের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে: ইসরাইলকে এরদোগানের হুঁশিয়ারি ১০০ টাকা রিচার্জে সেবা মেলে মাত্র ৬২ টাকার, পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার ইরান ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতেই হরমুজ থেকে ‘পালাল’ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আগামী সপ্তাহ থেকে ভারতীয় ভিসা পাবেন বাংলাদেশিরা অনলাইন জুয়াই মাদরাসার ৭০ হাজার টাকা হারিয়ে শিক্ষকের আত্মহত্যা হামলার মাত্র ৫ দিনেই ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামত করলো ইরান, যোগাযোগ স্বাভাবিক পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বড় যে অস্ত্র এখন ইরানের হাতে ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকি ‘অত্যন্ত হাস্যকর’: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান

আন্দালিব পার্থ জুলাই শহীদদের সাথে যে অন্যায় করেছেন তা হৃদয়বিদারক: মীর স্নিগ্ধ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

এবার চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদে তারডাইনামিকবক্তব্য দিতে গিয়ে জুলাই শহীদদের সাথে যে অন্যায় করেছেন, তা শুধু রাজনৈতিক ভুল না, এটি হৃদয়বিদারক। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পার্থের বক্তব্যের সমালোচনা করে একে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিনির্মম অসম্মানএবংইতিহাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাবলে অভিহিত করেন।

মীর স্নিগ্ধ স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদে তারডাইনামিকবক্তব্য দিতে গিয়ে জুলাই শহীদদের সাথে যে অন্যায় করেছেন, তা শুধু রাজনৈতিক ভুল না, এটি হৃদয়বিদারকিন্তু এই কথাগুলো শুনতে যতই নিরপেক্ষ মনে হোক, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর বিভাজন। এই কথার মাধ্যমে শহীদদের আর শহীদ রাখা হয়নি, তাদের ভাগ করে ফেলা হয়েছেতোমাদেরআরআমাদেরবলে। তিনি বলেছেন, ‘যেদিন আবু সাঈদ মারা যায়, সেদিন চট্টগ্রামে ওয়াসিমও মারা যায়। তাই জুলাইয়ে কারও অবদান কারও থেকে কম না।

মীর স্নিগ্ধ আরও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আবু সাঈদ কি কোনো দলের ছিল? ওয়াসিম কি কোনো দলের হয়ে রাস্তায় নেমেছিল? না। তারা দুজনই ছিল এই দেশের সন্তান। তারা বের হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, পরিচয় ছিল একটাই সাধারণ ছাত্র, সাধারণ মানুষ। আজ তাদের সেই পরিচয় মুছে দিয়ে যখন দলীয় খাতায় ফেলা হয়, তখন সেটা শুধু রাজনীতির অপচেষ্টা না, এটা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি নির্মম অসম্মান। আরও কষ্টের বিষয়, সংসদের ভেতরে বসে এই কথাগুলোতে টেবিল চাপড়ে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। একবারও কি কারও মনে হয়নি আমরা কাদের নিয়ে কথা বলছি?

স্ট্যাটাসের শেষে মীর স্নিগ্ধ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই কোনো দলের ছিল না। জুলাই ছিল মানুষের। জুলাই ছিল প্রতিবাদের, সাহসের, রক্তের। তবুও আজ আমরা দেখি, ৫ই আগস্টের পর প্রায় সব দলই গর্ব করে বলে, ‘আমাদের দলের এতজন শহীদ, এতজন আহত।কেনআমাদের’? কেন নাআমাদের সবার’? যতদিন আমরা বলতে না পারব জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ এই দেশের, আমাদের সবার, ততদিন আমরা শুধু তাদের ভুলে যাচ্ছি না, আমরা তাদের সাথে অন্যায় করছি। তাদের রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাসকে ছোট করছি। এটা শুধু ভুল না, এটা এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। এই কথাগুলো খালি একজন ব্যাক্তি বা দলের জন্য না, যে বা যারাই জুলাই শহীদদের কে দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে সকলের জন্যই প্রযোজ্য।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়োজনে আমরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত: জামায়াতে আমির

আন্দালিব পার্থ জুলাই শহীদদের সাথে যে অন্যায় করেছেন তা হৃদয়বিদারক: মীর স্নিগ্ধ

আপডেট সময় ১০:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

এবার চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদে তারডাইনামিকবক্তব্য দিতে গিয়ে জুলাই শহীদদের সাথে যে অন্যায় করেছেন, তা শুধু রাজনৈতিক ভুল না, এটি হৃদয়বিদারক। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পার্থের বক্তব্যের সমালোচনা করে একে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিনির্মম অসম্মানএবংইতিহাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাবলে অভিহিত করেন।

মীর স্নিগ্ধ স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদে তারডাইনামিকবক্তব্য দিতে গিয়ে জুলাই শহীদদের সাথে যে অন্যায় করেছেন, তা শুধু রাজনৈতিক ভুল না, এটি হৃদয়বিদারকিন্তু এই কথাগুলো শুনতে যতই নিরপেক্ষ মনে হোক, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর বিভাজন। এই কথার মাধ্যমে শহীদদের আর শহীদ রাখা হয়নি, তাদের ভাগ করে ফেলা হয়েছেতোমাদেরআরআমাদেরবলে। তিনি বলেছেন, ‘যেদিন আবু সাঈদ মারা যায়, সেদিন চট্টগ্রামে ওয়াসিমও মারা যায়। তাই জুলাইয়ে কারও অবদান কারও থেকে কম না।

মীর স্নিগ্ধ আরও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আবু সাঈদ কি কোনো দলের ছিল? ওয়াসিম কি কোনো দলের হয়ে রাস্তায় নেমেছিল? না। তারা দুজনই ছিল এই দেশের সন্তান। তারা বের হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, পরিচয় ছিল একটাই সাধারণ ছাত্র, সাধারণ মানুষ। আজ তাদের সেই পরিচয় মুছে দিয়ে যখন দলীয় খাতায় ফেলা হয়, তখন সেটা শুধু রাজনীতির অপচেষ্টা না, এটা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি নির্মম অসম্মান। আরও কষ্টের বিষয়, সংসদের ভেতরে বসে এই কথাগুলোতে টেবিল চাপড়ে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। একবারও কি কারও মনে হয়নি আমরা কাদের নিয়ে কথা বলছি?

স্ট্যাটাসের শেষে মীর স্নিগ্ধ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই কোনো দলের ছিল না। জুলাই ছিল মানুষের। জুলাই ছিল প্রতিবাদের, সাহসের, রক্তের। তবুও আজ আমরা দেখি, ৫ই আগস্টের পর প্রায় সব দলই গর্ব করে বলে, ‘আমাদের দলের এতজন শহীদ, এতজন আহত।কেনআমাদের’? কেন নাআমাদের সবার’? যতদিন আমরা বলতে না পারব জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ এই দেশের, আমাদের সবার, ততদিন আমরা শুধু তাদের ভুলে যাচ্ছি না, আমরা তাদের সাথে অন্যায় করছি। তাদের রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাসকে ছোট করছি। এটা শুধু ভুল না, এটা এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। এই কথাগুলো খালি একজন ব্যাক্তি বা দলের জন্য না, যে বা যারাই জুলাই শহীদদের কে দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে সকলের জন্যই প্রযোজ্য।