ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডের’ নমুনা দেখাল ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

এবার গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকে সাধ্যমত জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রও। তেহরান থেকে ছোড়া ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে প্রতিদিনই কেঁপে উঠছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড।পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় সমানতালে প্রতিশোধমূলক হামলা চলছে। এতে বেশ বিপাকে পড়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। সংঘাতের ষষ্ঠ দিন গত ৫ মার্চ পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্নমিনিটম্যান’ (এলএমজি ৩০) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।ডুমসডেহিসেবে পরিচিত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পরই আলোচনায় আসে নতুন একটি শব্দ। ডুমসডে বা ধ্বংসের দিন। এরপর থেকে এটি নিয়ে বেশ ঘাঁটাঘাঁটি হচ্ছে। যদিও এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শব্দটি আরও একবার আলোচনায় এসেছিল। গত ১১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রহস্যময় একটি বিমান উড়ানোর খবর আসে।

বিমানটি পরিচিতডুমসডে প্লেননামে। আকাশে উড়ন্ত পেন্টাগনের মতো গড়নের এই বিমান দেখেই কৌতূহল বাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। পারমাণবিক হামলায়ও টিকে থাকার সক্ষমতা সম্পন্ন এই উড়োজাহাজ আসলে দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার ভরসা। যেকোনো ধ্বংসাত্বক পরিস্থিতিতেও এই বিমানে বসে পরিচালনা করা যাবে মার্কিন সরকার ও বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যুদ্ধ। আকাশে ভাসমান সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করে। এই দুই ঘটনার পর ডুমসডে নিয়ে বেশ আলোচনা চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ৩৫তম দিন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন আধিপত্যে ধ্বংযজ্ঞ চালায় ইরান। একে একে মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য দিতে থাকে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বাহিনী।  প্রথমে জানা যায়, মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ৩৫, যা এখন পর্যন্ত সবেচেয় আধুনিক যুদ্ধযান হিসেবে পরিচিত, সেটি ধ্বংস করার দাবি করেছিল তেহরান। পরে জানা যায়, সেটি ছিল মার্কিন এফ১৫। 

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের  ১০ থান্ডারবোল্ড২ ভূপাতিত করেছে ইরান। একক আসনের এই অ্যাটাক যুদ্ধবিমান মূলত স্থল সেনাদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়। এরপর একে একে খবর আসতে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুই ডজন আকাশ যান বিধ্বস্ত হয়েছে ইরানি সেনাদের হামলায়।  এর মধ্যে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারও আছে, যেগুলো ইরানের মধ্যাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পালটকে খুঁজতে গিয়েছিল। এ অভিযানে যক্তরাষ্ট্র এক পালটকে উদ্ধারের দাবি করলেও ফেরার পথে আক্রান্ত হয় হেলিকপ্টার দুটি। তবে সেগুলো ধ্বংস হয়েছে কিনা, বা আঘাতের মাত্রা কেমন ছিল তা স্পষ্ট নয়।

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন যেসব যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত বা ক্ষতি করার দাবি করে ইরান সেগুলো হলো: একটি এফ১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস, একটি এফ১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত,দুটি এইচএইচ৬০ডব্লিউ জলি হেলিকপ্টারে আঘাত,একটি এ১০ বিমান ভূপাতিত, শিরাজএ একটি উইং লুং২ ড্রোন ভূপাতিত, তিনটি এমকিউ৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত, একটি হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত, ইরাকে একটি এফ১৬ ফাইটিং ফ্যালকন জরুরি কোড ৭৭০০ প্রেরণ করেছে, দুটি বোয়িং কেসি১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান জরুরি কোড ৭৭০০ প্রেরণ করেছে এবং দুটি ক্রুজ মিসাইল ও বেশ কয়েকটি সুইসাইড ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর অধিকাংশ তথ্যই মার্কিন সামরিক বাহিনী সত্য বলে স্বীকার করেছে, যা তাদের একটি অন্যতম ধ্বংসাত্ব দিনের প্রমাণ দেয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকেডুমসডেরনমুনা দেখিয়ে দিয়েছে ইরান, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরো বিশ্বের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডের’ নমুনা দেখাল ইরান

আপডেট সময় ১২:২৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

এবার গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকে সাধ্যমত জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রও। তেহরান থেকে ছোড়া ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে প্রতিদিনই কেঁপে উঠছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড।পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় সমানতালে প্রতিশোধমূলক হামলা চলছে। এতে বেশ বিপাকে পড়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। সংঘাতের ষষ্ঠ দিন গত ৫ মার্চ পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্নমিনিটম্যান’ (এলএমজি ৩০) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।ডুমসডেহিসেবে পরিচিত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পরই আলোচনায় আসে নতুন একটি শব্দ। ডুমসডে বা ধ্বংসের দিন। এরপর থেকে এটি নিয়ে বেশ ঘাঁটাঘাঁটি হচ্ছে। যদিও এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শব্দটি আরও একবার আলোচনায় এসেছিল। গত ১১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রহস্যময় একটি বিমান উড়ানোর খবর আসে।

বিমানটি পরিচিতডুমসডে প্লেননামে। আকাশে উড়ন্ত পেন্টাগনের মতো গড়নের এই বিমান দেখেই কৌতূহল বাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। পারমাণবিক হামলায়ও টিকে থাকার সক্ষমতা সম্পন্ন এই উড়োজাহাজ আসলে দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার ভরসা। যেকোনো ধ্বংসাত্বক পরিস্থিতিতেও এই বিমানে বসে পরিচালনা করা যাবে মার্কিন সরকার ও বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যুদ্ধ। আকাশে ভাসমান সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করে। এই দুই ঘটনার পর ডুমসডে নিয়ে বেশ আলোচনা চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ৩৫তম দিন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন আধিপত্যে ধ্বংযজ্ঞ চালায় ইরান। একে একে মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য দিতে থাকে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বাহিনী।  প্রথমে জানা যায়, মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ৩৫, যা এখন পর্যন্ত সবেচেয় আধুনিক যুদ্ধযান হিসেবে পরিচিত, সেটি ধ্বংস করার দাবি করেছিল তেহরান। পরে জানা যায়, সেটি ছিল মার্কিন এফ১৫। 

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের  ১০ থান্ডারবোল্ড২ ভূপাতিত করেছে ইরান। একক আসনের এই অ্যাটাক যুদ্ধবিমান মূলত স্থল সেনাদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়। এরপর একে একে খবর আসতে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুই ডজন আকাশ যান বিধ্বস্ত হয়েছে ইরানি সেনাদের হামলায়।  এর মধ্যে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারও আছে, যেগুলো ইরানের মধ্যাঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পালটকে খুঁজতে গিয়েছিল। এ অভিযানে যক্তরাষ্ট্র এক পালটকে উদ্ধারের দাবি করলেও ফেরার পথে আক্রান্ত হয় হেলিকপ্টার দুটি। তবে সেগুলো ধ্বংস হয়েছে কিনা, বা আঘাতের মাত্রা কেমন ছিল তা স্পষ্ট নয়।

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন যেসব যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত বা ক্ষতি করার দাবি করে ইরান সেগুলো হলো: একটি এফ১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস, একটি এফ১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত,দুটি এইচএইচ৬০ডব্লিউ জলি হেলিকপ্টারে আঘাত,একটি এ১০ বিমান ভূপাতিত, শিরাজএ একটি উইং লুং২ ড্রোন ভূপাতিত, তিনটি এমকিউ৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত, একটি হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত, ইরাকে একটি এফ১৬ ফাইটিং ফ্যালকন জরুরি কোড ৭৭০০ প্রেরণ করেছে, দুটি বোয়িং কেসি১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান জরুরি কোড ৭৭০০ প্রেরণ করেছে এবং দুটি ক্রুজ মিসাইল ও বেশ কয়েকটি সুইসাইড ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর অধিকাংশ তথ্যই মার্কিন সামরিক বাহিনী সত্য বলে স্বীকার করেছে, যা তাদের একটি অন্যতম ধ্বংসাত্ব দিনের প্রমাণ দেয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকেডুমসডেরনমুনা দেখিয়ে দিয়েছে ইরান, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরো বিশ্বের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।