পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে নাটকীয় ফলাফলে জয় পাওয়ার পর নিজের জয়ের ব্যাখ্যায় ধর্মীয় মেরুকরণের প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, মুসলিম ভোটাররা ব্যাপকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে গেলেও হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংহতির কারণেই তিনি জয়ী হয়েছেন—যা তিনি ‘হিন্দুত্ববাদের জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ভবানীপুরের এই ফলাফল রাজনৈতিক মহলে বড় চমক তৈরি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
লিড থেকে হার
সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার শুরুতে এগিয়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সপ্তম রাউন্ড পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে ব্যবধান দ্রুত কমতে থাকে। ১৪তম রাউন্ডে তা নেমে আসে চার হাজারের নিচে। শেষ পর্যন্ত সব ব্যবধান কাটিয়ে জয় নিশ্চিত করেন শুভেন্দু অধিকারী।
দক্ষিণ কলকাতার এই কেন্দ্রটি ২০১১ সাল থেকে তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এবারের ফল সেই ধারায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য
জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। মুসলিমরা তাকে খোলাখুলি ভোট দিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তারা মমতার পক্ষ নিয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। এই জয় আসলে হিন্দুত্ববাদের জয়।
তিনি আরও দাবি করেন, বাঙালি হিন্দুদের পাশাপাশি গুজরাটি, মারওয়াড়ি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটাররাও তাকে ভোট দিয়েছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভবানীপুর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মমতার প্রতিক্রিয়া
পরাজয়ের পর ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভারতীয় জনতা পার্টি মিলে নির্বাচনে কারচুপি করেছে এবং শতাধিক আসনে ‘লুট’ হয়েছে।
তার আরও অভিযোগ, ভবানীপুরে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















