ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্মার্ট টেকনোলজি থেকে ৫০ লাখ নিয়ে কাজ দেয়ার অভিযোগ বিসিসি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে: এটিএম আজহার বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি: অর্থমন্ত্রী জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে ইরানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করা: জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানি জাহাজে চীনা মিসাইলের কেমিক্যাল, তবে কি ইরানকে টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে বেইজিং? এক পরিবারে দুই এমপির নীতি না থাকায় আমিরের স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি: হামিদুর রহমান আযাদ দৃষ্টি নেই, তবুও স্বপ্ন অটুট শরীফের ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম সেনাবাহিনী: জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও পর্যবেক্ষণ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী যুদ্ধে নিজেদের সাফল্য তুলে না ধরায় মার্কিন গণমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

আশুরার দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

আশুরার দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

১. ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত (৬১ হিজরি / ১০ অক্টোবর, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ)

ইসলামের ইতিহাসে আশুরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শোকাবহ ঘটনা হলো কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ। ইয়াজিদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের পথে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আত্মত্যাগ করেন। এ দিন শিয়া মুসলমানদের কাছে বিশেষ শোক দিবস, এবং সুন্নিরাও এদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

২. নবী মূসা (আ.) ও বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি

আশুরার দিনেই আল্লাহ নবী মূসা (আ.)-কে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দেন এবং লোহিত সাগর (Red Sea) দ্বিখণ্ডিত করে তাঁকে ও তাঁর জাতিকে উদ্ধার করেন। আর ফেরাউন ও তার বাহিনী সমুদ্রে ডুবে যায়। এই দিনটির স্মরণে মূসা (আ.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে রোজা রেখেছিলেন।

৩. নবী নুহ (আ.)-এর কিশতির (নৌকার) ভূমিতে অবতরণ

বিশ্বাস করা হয়, মহাপ্লাবনের পর নুহ (আ.)-এর নৌকা (আরক) ঠিক আশুরার দিনই জুদি পর্বতে এসে থামে। দীর্ঘ দুর্যোগের পর এটা ছিল এক মুক্তির দিন।

৪. নবী ইব্রাহিম (আ.)-কে আগুন থেকে রক্ষা করা হয়

নিমরুদের তৈরি অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন ইব্রাহিম (আ.)। ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, আল্লাহ আশুরার দিনই তাঁকে অগ্নিকুণ্ড থেকে নিরাপদে বের করে আনেন—আগ্নিকুণ্ড তাঁর জন্য ঠান্ডা ও শান্তিতে পরিণত হয়।

৫. নবী ইউনুস (আ.)-কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়

ইউনুস (আ.) আল্লাহর হুকুম না মেনে কওম ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এক বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেলে। বহুদিন পর তিনি তাওবা করে ক্ষমা চান, আর আল্লাহ আশুরার দিন তাঁকে মুক্তি দেন।

৬. নবী আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়

হাদিস অনুসারে, আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে অবতরণের পর দীর্ঘ তাওবার শেষে আল্লাহ আশুরার দিন তাঁর তওবা কবুল করেন।

৭. নবী ঈসা (আ.)-কে আসমানে তুলে নেওয়া হয়

কিছু বর্ণনায় আছে, আল্লাহ আশুরার দিন ঈসা (আ.)-কে আসমানে উত্তোলন করেন, যখন ইহুদিরা তাঁকে ক্রুশে চড়ানোর ষড়যন্ত্র করছিল।

৮. নবী আইয়ুব (আ.)-এর কষ্ট দূর করা হয়

আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ রোগ-ব্যাধি ও কষ্টে আক্রান্ত থাকার পর, আল্লাহ আশুরার দিনই তাঁর দোয়া কবুল করে আরোগ্য দান করেন।

৯. হজরত ইউসুফ (আ.)-এর কারাগার থেকে মুক্তি

বর্ণনায় পাওয়া যায়, আশুরার দিন হজরত ইউসুফ (আ.) মিসরের কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং সম্মানিত অবস্থানে আসীন হন।

১০. তুর পাহাড়ে হজরত মূসা (আ.) আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন

মূসা (আ.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথন (কালামুল্লাহ)। কিছু বর্ণনায় আছে, এটি আশুরার দিন ঘটে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মার্ট টেকনোলজি থেকে ৫০ লাখ নিয়ে কাজ দেয়ার অভিযোগ বিসিসি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

আশুরার দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

আপডেট সময় ১০:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

আশুরার দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলি

১. ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত (৬১ হিজরি / ১০ অক্টোবর, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ)

ইসলামের ইতিহাসে আশুরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শোকাবহ ঘটনা হলো কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ। ইয়াজিদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের পথে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আত্মত্যাগ করেন। এ দিন শিয়া মুসলমানদের কাছে বিশেষ শোক দিবস, এবং সুন্নিরাও এদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

২. নবী মূসা (আ.) ও বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি

আশুরার দিনেই আল্লাহ নবী মূসা (আ.)-কে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দেন এবং লোহিত সাগর (Red Sea) দ্বিখণ্ডিত করে তাঁকে ও তাঁর জাতিকে উদ্ধার করেন। আর ফেরাউন ও তার বাহিনী সমুদ্রে ডুবে যায়। এই দিনটির স্মরণে মূসা (আ.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে রোজা রেখেছিলেন।

৩. নবী নুহ (আ.)-এর কিশতির (নৌকার) ভূমিতে অবতরণ

বিশ্বাস করা হয়, মহাপ্লাবনের পর নুহ (আ.)-এর নৌকা (আরক) ঠিক আশুরার দিনই জুদি পর্বতে এসে থামে। দীর্ঘ দুর্যোগের পর এটা ছিল এক মুক্তির দিন।

৪. নবী ইব্রাহিম (আ.)-কে আগুন থেকে রক্ষা করা হয়

নিমরুদের তৈরি অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন ইব্রাহিম (আ.)। ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, আল্লাহ আশুরার দিনই তাঁকে অগ্নিকুণ্ড থেকে নিরাপদে বের করে আনেন—আগ্নিকুণ্ড তাঁর জন্য ঠান্ডা ও শান্তিতে পরিণত হয়।

৫. নবী ইউনুস (আ.)-কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়

ইউনুস (আ.) আল্লাহর হুকুম না মেনে কওম ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এক বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেলে। বহুদিন পর তিনি তাওবা করে ক্ষমা চান, আর আল্লাহ আশুরার দিন তাঁকে মুক্তি দেন।

৬. নবী আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়

হাদিস অনুসারে, আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে অবতরণের পর দীর্ঘ তাওবার শেষে আল্লাহ আশুরার দিন তাঁর তওবা কবুল করেন।

৭. নবী ঈসা (আ.)-কে আসমানে তুলে নেওয়া হয়

কিছু বর্ণনায় আছে, আল্লাহ আশুরার দিন ঈসা (আ.)-কে আসমানে উত্তোলন করেন, যখন ইহুদিরা তাঁকে ক্রুশে চড়ানোর ষড়যন্ত্র করছিল।

৮. নবী আইয়ুব (আ.)-এর কষ্ট দূর করা হয়

আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ রোগ-ব্যাধি ও কষ্টে আক্রান্ত থাকার পর, আল্লাহ আশুরার দিনই তাঁর দোয়া কবুল করে আরোগ্য দান করেন।

৯. হজরত ইউসুফ (আ.)-এর কারাগার থেকে মুক্তি

বর্ণনায় পাওয়া যায়, আশুরার দিন হজরত ইউসুফ (আ.) মিসরের কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং সম্মানিত অবস্থানে আসীন হন।

১০. তুর পাহাড়ে হজরত মূসা (আ.) আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন

মূসা (আ.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথন (কালামুল্লাহ)। কিছু বর্ণনায় আছে, এটি আশুরার দিন ঘটে।