ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেটা আপনার বিরুদ্ধে হবে সেটা মব, যেটা আপনার শত্রুর বিরুদ্ধে হবে সেটা মুক্তিযুদ্ধ: হাদি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৩৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বলেছেন, “আপনার সন্তান কি ছাত্ররাজনীতি করে? আপনি যদি বিএনপি করেন, আপনার ছেলে কি ছাত্রদল করে? যদি জামায়াত করেন, তাহলে আপনার ছেলে কি ছাত্রশিবির করে? কোনোভাবে ইন্টার পাশ করিয়ে ওদেরকে বিদেশ পাঠিয়ে দেন। আপনার নিজের ছেলেমেয়েকে ভালোবেসে নিরাপদে বিদেশে পাঠান, আর এদিকে অন্যের ছেলেমেয়েকে রাজপথে নামিয়ে দিয়ে দেশ রক্ষার নাটক করেন।”

তিনি বলেন, “এই ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা উচিত। এই দেশে যেসব শহীদ হয়েছে, শুধু যদি প্রত্যেকটা শহীদ পরিবার থেকে একজন করে রাজপথে নামে, তাহলে কী পরিস্থিতি হতো তা চিন্তা করে দেখুন।” শরিফ হাদি আরও বলেন, “যদি কোনো আন্দোলন হয় সরকারের বিরুদ্ধে, তখন সেটা ‘মব’ বলে অপবাদ দেওয়া হয়। অথচ যখন সেই একই রকম আন্দোলন সরকারের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হয়, তখন সেটাই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ হয়ে যায়।”

একজন তরুণীর বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “একজন মেয়ে বলেছেন, আমি তো ইন্টার ফেল করছি। এই কোটায় আমি কী করবো? আমি তো কয়েকদিন পর বিয়ে হয়ে যাবো। কিন্তু আমার ভাইয়ের রক্ত দেখে আমি আর চুপ থাকতে পারিনি, রাজপথে নেমে এসেছি। অথচ আপনারা, রাজনীতিবিদরা, এই সত্য বলেন না। আপনাদের সন্তানরা ও-লেভেল, এ-লেভেল পড়ে, তারপর বিদেশে চলে যায়। তারা ছাত্ররাজনীতি করে না।”

তিনি প্রশ্ন করেন, “প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়জনের সন্তান ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত? ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে, কিন্তু সেটা যেন লেজুড়বৃত্তির না হয়। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ থাকতে হবে, কিন্তু সেটা ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য—not রাজনৈতিক নেতাদের চাটুকারিতার জন্য।”

ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা বলেন, “গত এক বছরে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি—এটাই বিস্ময়ের বিষয়। আওয়ামী লীগ নিজেরাই বলেছে, তাদের পতন হলে পাঁচ লাখ মানুষ মারা যাবে। তারা এটা ভয় দেখানোর জন্য বলেনি, বরং তারা নিজেরাই জানে, কী পরিমাণ হত্যা, গুম, খুন তারা করেছে । যদি প্রতিটি শহীদ পরিবারের একজন করে রুখে দাঁড়াতো, তাহলে আওয়ামী লীগের টিকে থাকার কথা ছিল না।”

তিনি বলেন, “শাপলা চত্বর, পিলখানা, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সব মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি শহীদ হয়েছে। এইসব পরিবার থেকে যদি একজন করে প্রতিবাদ করতো, তাহলে দেশের চেহারাই অন্যরকম হতো। অথচ বিএনপি ও জামায়াতের মতো দলগুলো সেই শহীদদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশোধ নেয়নি। এটা তাদের বিচক্ষণতার প্রমাণ। তারা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, বিশৃঙ্খলা হতে দেয়নি। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো উচিত।”

‘মব’ শব্দটির সংজ্ঞা নিয়ে তিনি বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে হলে সেটা মব, আর আপনার শত্রুর বিরুদ্ধে হলে সেটা মুক্তিযুদ্ধ—এই দ্বিচারিতা এখনই বন্ধ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর রাষ্ট্রীয় কল্পনার নাম শাহবাগের সন্ত্রাস। সেই শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, সচিবালয়, প্রশাসন ধ্বংস করা হয়েছে। আমি নিজে দেখেছি, শাহবাগে মিডিয়ার নির্দেশ ছিল ক্যামেরা এমনভাবে ধরতে হবে যাতে ভিড় বেশি মনে হয়। গার্মেন্টস থেকে জোর করে লোক আনা হতো।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছাত্রলীগের সহপাঠীদের রুমে কাচ্চি বিরিয়ানি, সেভেন আপ, কোক, ড্রাই কেক—সবসময় থাকতো। আন্দোলনের নামে ভোজন চলতো। যতটুকু খেতো, বাকিটুকু আবার রুমে এনে বন্ধুদের দিতো। এটা আন্দোলন না, এটা ছিল মিডিয়া-পরিচালিত নাটক।” শরিফ ওসমান হাদি ছাত্ররাজনীতির নামে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানরা যেখানে নিরাপদে বিদেশে থাকে, সেখানে সাধারণ মানুষের সন্তানরা রাজপথে জীবন দিয়ে আন্দোলন করছে। তিনি শাহবাগ আন্দোলন, গুম-খুনের অভিযোগ, ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে সকল শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যেটা আপনার বিরুদ্ধে হবে সেটা মব, যেটা আপনার শত্রুর বিরুদ্ধে হবে সেটা মুক্তিযুদ্ধ: হাদি

আপডেট সময় ০৪:৫১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বলেছেন, “আপনার সন্তান কি ছাত্ররাজনীতি করে? আপনি যদি বিএনপি করেন, আপনার ছেলে কি ছাত্রদল করে? যদি জামায়াত করেন, তাহলে আপনার ছেলে কি ছাত্রশিবির করে? কোনোভাবে ইন্টার পাশ করিয়ে ওদেরকে বিদেশ পাঠিয়ে দেন। আপনার নিজের ছেলেমেয়েকে ভালোবেসে নিরাপদে বিদেশে পাঠান, আর এদিকে অন্যের ছেলেমেয়েকে রাজপথে নামিয়ে দিয়ে দেশ রক্ষার নাটক করেন।”

তিনি বলেন, “এই ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা উচিত। এই দেশে যেসব শহীদ হয়েছে, শুধু যদি প্রত্যেকটা শহীদ পরিবার থেকে একজন করে রাজপথে নামে, তাহলে কী পরিস্থিতি হতো তা চিন্তা করে দেখুন।” শরিফ হাদি আরও বলেন, “যদি কোনো আন্দোলন হয় সরকারের বিরুদ্ধে, তখন সেটা ‘মব’ বলে অপবাদ দেওয়া হয়। অথচ যখন সেই একই রকম আন্দোলন সরকারের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হয়, তখন সেটাই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ হয়ে যায়।”

একজন তরুণীর বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “একজন মেয়ে বলেছেন, আমি তো ইন্টার ফেল করছি। এই কোটায় আমি কী করবো? আমি তো কয়েকদিন পর বিয়ে হয়ে যাবো। কিন্তু আমার ভাইয়ের রক্ত দেখে আমি আর চুপ থাকতে পারিনি, রাজপথে নেমে এসেছি। অথচ আপনারা, রাজনীতিবিদরা, এই সত্য বলেন না। আপনাদের সন্তানরা ও-লেভেল, এ-লেভেল পড়ে, তারপর বিদেশে চলে যায়। তারা ছাত্ররাজনীতি করে না।”

তিনি প্রশ্ন করেন, “প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়জনের সন্তান ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত? ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে, কিন্তু সেটা যেন লেজুড়বৃত্তির না হয়। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ থাকতে হবে, কিন্তু সেটা ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য—not রাজনৈতিক নেতাদের চাটুকারিতার জন্য।”

ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা বলেন, “গত এক বছরে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি—এটাই বিস্ময়ের বিষয়। আওয়ামী লীগ নিজেরাই বলেছে, তাদের পতন হলে পাঁচ লাখ মানুষ মারা যাবে। তারা এটা ভয় দেখানোর জন্য বলেনি, বরং তারা নিজেরাই জানে, কী পরিমাণ হত্যা, গুম, খুন তারা করেছে । যদি প্রতিটি শহীদ পরিবারের একজন করে রুখে দাঁড়াতো, তাহলে আওয়ামী লীগের টিকে থাকার কথা ছিল না।”

তিনি বলেন, “শাপলা চত্বর, পিলখানা, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সব মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি শহীদ হয়েছে। এইসব পরিবার থেকে যদি একজন করে প্রতিবাদ করতো, তাহলে দেশের চেহারাই অন্যরকম হতো। অথচ বিএনপি ও জামায়াতের মতো দলগুলো সেই শহীদদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশোধ নেয়নি। এটা তাদের বিচক্ষণতার প্রমাণ। তারা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, বিশৃঙ্খলা হতে দেয়নি। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো উচিত।”

‘মব’ শব্দটির সংজ্ঞা নিয়ে তিনি বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে হলে সেটা মব, আর আপনার শত্রুর বিরুদ্ধে হলে সেটা মুক্তিযুদ্ধ—এই দ্বিচারিতা এখনই বন্ধ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর রাষ্ট্রীয় কল্পনার নাম শাহবাগের সন্ত্রাস। সেই শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, সচিবালয়, প্রশাসন ধ্বংস করা হয়েছে। আমি নিজে দেখেছি, শাহবাগে মিডিয়ার নির্দেশ ছিল ক্যামেরা এমনভাবে ধরতে হবে যাতে ভিড় বেশি মনে হয়। গার্মেন্টস থেকে জোর করে লোক আনা হতো।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছাত্রলীগের সহপাঠীদের রুমে কাচ্চি বিরিয়ানি, সেভেন আপ, কোক, ড্রাই কেক—সবসময় থাকতো। আন্দোলনের নামে ভোজন চলতো। যতটুকু খেতো, বাকিটুকু আবার রুমে এনে বন্ধুদের দিতো। এটা আন্দোলন না, এটা ছিল মিডিয়া-পরিচালিত নাটক।” শরিফ ওসমান হাদি ছাত্ররাজনীতির নামে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানরা যেখানে নিরাপদে বিদেশে থাকে, সেখানে সাধারণ মানুষের সন্তানরা রাজপথে জীবন দিয়ে আন্দোলন করছে। তিনি শাহবাগ আন্দোলন, গুম-খুনের অভিযোগ, ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে সকল শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।