দশম গ্রেডের দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টানা তিন দিনের অবস্থান কর্মসূচি ও সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অবশেষে ১১তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস পেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ আশ্বাসের পর সোমবার রাতে শিক্ষক নেতারা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেন।
তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষকরা নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ মিনারে উপস্থিত শিক্ষকরা “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দিতে থাকেন এবং নিজেদের সংগঠনের নেতাদের খুঁজতে থাকেন।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সচিবালয়ে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং শিক্ষক সংগঠনের ১৭ জন প্রতিনিধি।
বৈঠক শেষে অর্থ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব জাতীয় পে কমিশন ২০২৫–এর কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে বেতন পান, যেখানে মূল বেতন শুরু ১১ হাজার টাকা। ১১তম গ্রেড কার্যকর হলে তাদের মূল বেতন দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এই পরিবর্তনে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৮৩২ কোটি টাকা।
তবে শিক্ষক সমাজের একটি বড় অংশ এখনো দশম গ্রেডের দাবি থেকে সরে আসতে রাজি নন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ১১তম গ্রেড নয়, দশম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রায় ৬৬ হাজার ২৯৭ শিক্ষক রয়েছেন, যারা এসএসসি বা এইচএসসি পাস। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাই দশম গ্রেড বাস্তবায়নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই শিক্ষকরা অবসরে যেতে আরও ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে, তাই তাদের অবস্থান বিবেচনায় বেতন কাঠামোয় বৈষম্যের আশঙ্কা রয়েছে।
এরই মধ্যে রিট মামলার ভিত্তিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে দশম করা হয়েছে, যা সারাদেশের সব প্রধান শিক্ষকের জন্যও পথ তৈরি করেছে।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে পরিণত না হলে আবারও রাজপথে নামবেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























