ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বক্তব্য প্রদানকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জেলা জামায়াত আমির ক্যাম্পাসে কুত্তা পেটাতে ছাত্রদলের হেডাম লাগে না: রাকসু জিএসকে ছাত্রদল সভাপতি আমিরাতে শাবানের চাঁদ দেখা গেছে, রমজানের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব গণভোট নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা মূলত পলাতক শক্তি: আদিলুর রহমান বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার দিলো রাশিয়া কেন্দ্রের আশপাশেও স্বতন্ত্র ও জামায়াতকে ঢুকতে দেব না: বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি দেশের অর্থনীতি আর ভঙ্গুর অবস্থায় নেই, রিজার্ভ এখন ৩২ বিলিয়ন: অর্থ উপদেষ্টা কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না, ভোট হবে নিরপেক্ষ: সেনাপ্রধান আসিফ মাহমুদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে: ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন হচ্ছে ৪২ হাজার টাকা!

নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা মাওলানা ভাসানীর ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী আজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

 

স্বাধীনতার ইতিহাসে অনন্য নাম মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সমাজের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আজীবন লড়ে যাওয়া এই মহান নেতার আজ ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া ভাসানী বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণআন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য চরিত্র।

শৈশব থেকেই দরিদ্র ও কৃষকশ্রেণির পাশে দাঁড়ানো ভাসানী পরবর্তীতে খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে শীর্ষস্থানীয় নেতায় পরিণত হন। তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করে তিনি দ্রুত হয়ে ওঠেন জনগণের নেতা।

দেশভাগের উত্তাল সময় থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের সব গণসংগ্রামে ভাসানীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি ছিলেন প্রভাবশালী নেতৃত্বের অন্যতম স্তম্ভ। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। তাঁর রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণভাবে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য নিবেদিত।

টাঙ্গাইলের সন্তোষ ছিল তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানবকল্যাণের কেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসেবে জাতির সংকটে তিনি পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুর পর সন্তোষেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তবে তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনা আজো রাজনীতি, গণঅধিকার ও মুক্তির আন্দোলনে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ সারাদেশে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এই কিংবদন্তি নেতাকে। মাওলানা ভাসানীর জীবনদর্শন মনে করিয়ে দেয়— নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সর্বোচ্চ দায়িত্ব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বক্তব্য প্রদানকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জেলা জামায়াত আমির

নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা মাওলানা ভাসানীর ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় ১০:২৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

স্বাধীনতার ইতিহাসে অনন্য নাম মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সমাজের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আজীবন লড়ে যাওয়া এই মহান নেতার আজ ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া ভাসানী বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণআন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য চরিত্র।

শৈশব থেকেই দরিদ্র ও কৃষকশ্রেণির পাশে দাঁড়ানো ভাসানী পরবর্তীতে খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে শীর্ষস্থানীয় নেতায় পরিণত হন। তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করে তিনি দ্রুত হয়ে ওঠেন জনগণের নেতা।

দেশভাগের উত্তাল সময় থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের সব গণসংগ্রামে ভাসানীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি ছিলেন প্রভাবশালী নেতৃত্বের অন্যতম স্তম্ভ। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। তাঁর রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণভাবে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য নিবেদিত।

টাঙ্গাইলের সন্তোষ ছিল তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানবকল্যাণের কেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসেবে জাতির সংকটে তিনি পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুর পর সন্তোষেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তবে তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনা আজো রাজনীতি, গণঅধিকার ও মুক্তির আন্দোলনে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ সারাদেশে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এই কিংবদন্তি নেতাকে। মাওলানা ভাসানীর জীবনদর্শন মনে করিয়ে দেয়— নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সর্বোচ্চ দায়িত্ব।