ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল

শিশু সাজিদের শেষ প্রেসক্রিপশনে যা লিখলেন চিকিৎসক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫২১৩ বার পড়া হয়েছে

 

রাজশাহীর তানোরে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার জন্য তৈরি করা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উদ্ধারের সময় শিশুটি জীবিত ছিল কি না—এ নিয়ে নিশ্চিত বক্তব্য কেউ দিতে পারেননি। রাত ৯টা ২ মিনিটে তাকে উদ্ধার করা হয়, তবে চিকিৎসকদের দেওয়া প্রেসক্রিপশনেও শিশুটি জীবিত ছিল কিনা তা উল্লেখ নেই। মেডিকেল অফিসার জানান, শিশুটির ভাইটাল সাইন পরীক্ষা করা হলে পালস ও রক্তচাপ পাওয়া যায়নি। পরে ইসিজি করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে শিশুটি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে। ডা. বার্নাবাস হাসদা বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অক্সিজেনের অভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে শিশুর নানা আইয়ূব আলী দাবি করেন, উদ্ধার করার সময় সাজিদ জীবিত ছিল। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরাও সেই সময় তাকে বেঁচে থাকার কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। মরদেহ পরিবার বাড়িতে নিয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, পাইপের ভেতরে মাত্র ৬–৮ ইঞ্চি ব্যাসের জায়গায় শিশু আটকে ছিল—যা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান ছিল। স্থানীয়রা আগে থেকেই গর্তে নেমে খোঁড়াখুঁড়ি করায় ভিতরে মাটি ও খড়কুটো জমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সার্চ ভিশন ক্যামেরা চালিয়ে তারা মাটির স্তূপ দেখতে পান, যেখানে শিশুর কোনো অঙ্গ দেখা যাচ্ছিল না। তবুও সম্ভাবনা ধরে রেখেই উদ্ধার কাজ চালানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খনন করা হলেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় খোলা মুখে পড়ে ছিল। কোনো সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। গর্তের পাশে সারারাত জেগে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় কেঁদে কাটান সাজিদের মা। প্রথমদিকে গর্তের ভেতর থেকে শব্দ পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে যায়। অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখলেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশু সাজিদ গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। প্রায় ৪০ ফুট মাটি খনন করে ৩২ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুতে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া এবং পুরো তানোর উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের

শিশু সাজিদের শেষ প্রেসক্রিপশনে যা লিখলেন চিকিৎসক

আপডেট সময় ০৯:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

রাজশাহীর তানোরে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার জন্য তৈরি করা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উদ্ধারের সময় শিশুটি জীবিত ছিল কি না—এ নিয়ে নিশ্চিত বক্তব্য কেউ দিতে পারেননি। রাত ৯টা ২ মিনিটে তাকে উদ্ধার করা হয়, তবে চিকিৎসকদের দেওয়া প্রেসক্রিপশনেও শিশুটি জীবিত ছিল কিনা তা উল্লেখ নেই। মেডিকেল অফিসার জানান, শিশুটির ভাইটাল সাইন পরীক্ষা করা হলে পালস ও রক্তচাপ পাওয়া যায়নি। পরে ইসিজি করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে শিশুটি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে। ডা. বার্নাবাস হাসদা বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অক্সিজেনের অভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে শিশুর নানা আইয়ূব আলী দাবি করেন, উদ্ধার করার সময় সাজিদ জীবিত ছিল। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরাও সেই সময় তাকে বেঁচে থাকার কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। মরদেহ পরিবার বাড়িতে নিয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, পাইপের ভেতরে মাত্র ৬–৮ ইঞ্চি ব্যাসের জায়গায় শিশু আটকে ছিল—যা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান ছিল। স্থানীয়রা আগে থেকেই গর্তে নেমে খোঁড়াখুঁড়ি করায় ভিতরে মাটি ও খড়কুটো জমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সার্চ ভিশন ক্যামেরা চালিয়ে তারা মাটির স্তূপ দেখতে পান, যেখানে শিশুর কোনো অঙ্গ দেখা যাচ্ছিল না। তবুও সম্ভাবনা ধরে রেখেই উদ্ধার কাজ চালানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খনন করা হলেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় খোলা মুখে পড়ে ছিল। কোনো সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। গর্তের পাশে সারারাত জেগে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় কেঁদে কাটান সাজিদের মা। প্রথমদিকে গর্তের ভেতর থেকে শব্দ পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে যায়। অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখলেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশু সাজিদ গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। প্রায় ৪০ ফুট মাটি খনন করে ৩২ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুতে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া এবং পুরো তানোর উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।