ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল

বাবরি মসজিদের আদলে বাংলাদেশে নির্মিত হচ্ছে বিশাল মসজিদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

গত ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের উৎসবমুখর মুহূর্তে যখন আলো ঝলমলে আয়োজন চলছিল, তখন সেই উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এক ঐতিহাসিক স্থাপনার স্মৃতি, বাবরি মসজিদ। যে মসজিদটি আজ নেই, কিন্তু ইতিহাসে যার অবস্থান এখনো অমলিন। এদিকে অযোধ্যার সেই স্মৃতি বিলীন হয়ে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম হৃদয়ে বাবরি মসজিদ এখনো বেঁচে আছে। আর সেই ইতিহাসকে নতুন করে জাগরুক করতেই বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায়, ধলেশ্বরী নদীর তীরে বাবরি মসজিদের আদলে নির্মিত হচ্ছে এক বিশাল মসজিদ।

জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার পাশেই এই মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে। এই মহতী উদ্যোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। প্রায় ছয় বিঘা (কিছু সূত্রে তিন বিঘা) জমির ওপর তৈরি হচ্ছে এই স্থাপনা। গম্বুজ, খিলান, দেয়ালের অলংকার সবকিছুতেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে মোগল স্থাপত্যের ছোঁয়া, যা মনে করিয়ে দেবে মীর বাকি নির্মিত ভারতের সেই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদকে।

মসজিদ নির্মাণের অর্থায়ন পুরোপুরি মানুষের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। দায়িত্বশীলরা জানান, এখানে কোনো বড় দাতা বা বিদেশি অর্থায়ন নেই। কেউ এক বস্তা সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করছেন, কেউ নিজের জমানো টাকা এনে দিচ্ছেন। নবীপ্রেমিক মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং ঈমানি চেতনা দিয়েই কাজটি এগিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, অযোধ্যায় যা হারিয়েছে, ধলেশ্বরীর তীরে তা নতুন রূপে ফিরে আসছে। এই মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, আত্মপরিচয় এবং ইতিহাস জাগিয়ে রাখার এক প্রতীক।

মসজিদ নির্মাণ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, বাংলাদেশের বাবরি মসজিদের স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সন্তান, বর্তমানে বাবরি মসজিদ নির্মানের উদ্যোক্তা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করার জন্য। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে সেই আঘাত আজ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একটি বাবরি মসজিদ শহীদ হয়েছে, কিন্তু সারা পৃথিবীতে হাজারো বাবরি মসজিদের চেতনা জেগে উঠেছে। ধলেশ্বরীর তীরে তৈরি হওয়া এই মসজিদ প্রমাণ করে, ইসলামের কোনো ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা এবং ঐক্যই এই কাজকে সফল করবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, এই মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে যে মুসলমানরা ইতিহাস ভুলে যায় না। বরং ইতিহাসকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যায়। ইট-পাথর পুরোনো হতে পারে, কিন্তু এই মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানিয়ে দেবে হারানো বাবরি মসজিদের গল্প। অযোধ্যার স্মৃতি যেদিন মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, সেদিনই যেন ইতিহাস নতুনভাবে লেখা শুরু হয়। আর সেই ইতিহাস আজ বাংলাদেশের বুকে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ধলেশ্বরীর তীরে নির্মিত এই মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর মানসিক শক্তি, ঐতিহ্য এবং চেতনার এক নতুন প্রতীক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের

বাবরি মসজিদের আদলে বাংলাদেশে নির্মিত হচ্ছে বিশাল মসজিদ

আপডেট সময় ১১:৪৪:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

গত ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের উৎসবমুখর মুহূর্তে যখন আলো ঝলমলে আয়োজন চলছিল, তখন সেই উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এক ঐতিহাসিক স্থাপনার স্মৃতি, বাবরি মসজিদ। যে মসজিদটি আজ নেই, কিন্তু ইতিহাসে যার অবস্থান এখনো অমলিন। এদিকে অযোধ্যার সেই স্মৃতি বিলীন হয়ে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম হৃদয়ে বাবরি মসজিদ এখনো বেঁচে আছে। আর সেই ইতিহাসকে নতুন করে জাগরুক করতেই বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায়, ধলেশ্বরী নদীর তীরে বাবরি মসজিদের আদলে নির্মিত হচ্ছে এক বিশাল মসজিদ।

জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার পাশেই এই মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে। এই মহতী উদ্যোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। প্রায় ছয় বিঘা (কিছু সূত্রে তিন বিঘা) জমির ওপর তৈরি হচ্ছে এই স্থাপনা। গম্বুজ, খিলান, দেয়ালের অলংকার সবকিছুতেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে মোগল স্থাপত্যের ছোঁয়া, যা মনে করিয়ে দেবে মীর বাকি নির্মিত ভারতের সেই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদকে।

মসজিদ নির্মাণের অর্থায়ন পুরোপুরি মানুষের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। দায়িত্বশীলরা জানান, এখানে কোনো বড় দাতা বা বিদেশি অর্থায়ন নেই। কেউ এক বস্তা সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করছেন, কেউ নিজের জমানো টাকা এনে দিচ্ছেন। নবীপ্রেমিক মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং ঈমানি চেতনা দিয়েই কাজটি এগিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, অযোধ্যায় যা হারিয়েছে, ধলেশ্বরীর তীরে তা নতুন রূপে ফিরে আসছে। এই মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, আত্মপরিচয় এবং ইতিহাস জাগিয়ে রাখার এক প্রতীক।

মসজিদ নির্মাণ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, বাংলাদেশের বাবরি মসজিদের স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সন্তান, বর্তমানে বাবরি মসজিদ নির্মানের উদ্যোক্তা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করার জন্য। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে সেই আঘাত আজ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একটি বাবরি মসজিদ শহীদ হয়েছে, কিন্তু সারা পৃথিবীতে হাজারো বাবরি মসজিদের চেতনা জেগে উঠেছে। ধলেশ্বরীর তীরে তৈরি হওয়া এই মসজিদ প্রমাণ করে, ইসলামের কোনো ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা এবং ঐক্যই এই কাজকে সফল করবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, এই মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে যে মুসলমানরা ইতিহাস ভুলে যায় না। বরং ইতিহাসকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যায়। ইট-পাথর পুরোনো হতে পারে, কিন্তু এই মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানিয়ে দেবে হারানো বাবরি মসজিদের গল্প। অযোধ্যার স্মৃতি যেদিন মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, সেদিনই যেন ইতিহাস নতুনভাবে লেখা শুরু হয়। আর সেই ইতিহাস আজ বাংলাদেশের বুকে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ধলেশ্বরীর তীরে নির্মিত এই মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর মানসিক শক্তি, ঐতিহ্য এবং চেতনার এক নতুন প্রতীক।