শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর পেয়ে খুশি হলে যাঁরা

দুবাইয়ের হোটেলে শ্রীদেবীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর ছেয়ে গেছে সংবাদমাধ্যম। কখন শ্রীদেবীর দেহ দেশে এসে পৌঁছবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়েই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায়।
এমন খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও পাঠকদের আগ্রহ থাকবে, তা স্বাভাবিক। কিন্তু শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবরে অনেকেই দুঃখ পেলেও, ‘খুশির’ হাওয়া কোনও কোনও মহলে।

খুশির হাওয়া অবশ্য সরাসরি শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবরে না হলেও, বলিউড অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর নিয়ে হইচই হওয়াতে তাঁরা ‘খুশি’ হতেই পারেন।

Advertisement

একবার দেখা যাক কারা ‘লাভবান’ হলেন শ্রীদেবী-সংবাদে:

নীরব মোদী
শ্রীদেবীর মৃত্যুর ঠিক আগেই সারা দেশ জুড়ে হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের থেকে ১৪০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পালিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। সেই টাকা উদ্ধার করা দূরে থাক, নীরব মোদীকে খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে প্রতিদিন। কিন্তু শ্রীদেবীর খবর লোকের মুখে মুখে যে ভাবে ঘুরছে, নীরব মোদী এখন সেভাবে আলোচনায় উঠে আসছে না। এতে খুশি হতেই পারেন নীরব।

বিজেপি
নীরব মোদী-কাণ্ড নিয়ে যেভাবে কোণঠাসা হয়েছে দেশের শাসকদল এবং এই টাকা লুঠের ঘটনায় একের পরে এক প্রশ্নবাণ এসেছে বিজেপির ঘরে, তা নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে মোদী-শাহদের। কিন্তু শ্রীদেবীর খবরের পরে বিরোধী কংগ্রেসও নীরব-কাণ্ড নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করেনি এখনও। বাতিল হয়েছে কংগ্রেসের সাংবাদিক সম্মেলনও। শ্রীদেবীর মৃত্যুসংবাদ তাই আপাতত স্বস্তি দিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে।

ভারতী ঘোষ
রাজ্যে ভারতী কাণ্ড ছিল খবরের শিরোনামে। কোটি কোটি টাকা ও গয়না উদ্ধার হচ্ছিল ভারতী ঘোষের স্বামী, পরিচিতদের বাড়ি বা ব্যাঙ্কের লকার থেকে। কিন্তু ফেরার ভারতীকে আত্মপক্ষ সমর্থনে অডিও-বার্তা ছড়িয়ে দিতে হচ্ছিল। শ্রীদেবীর খবরের দাপটে ভারতী-কাণ্ড শুধু সংবাদ শিরোনাম থেকেই দূরে চলে যায়নি, চায়ের বা ট্রেন-বাসের আড্ডা থেকেও ভারতীর বদলে শ্রীদেবী এসেছেন। সাময়িক স্বস্তি ভারতী শিবিরেও।

নীতিশ কুমার
বিহারের মুজফ্‌ফরপুরে গাড়ির ধাক্কায় ছ’জন স্কুলছাত্রী ও তিন জন স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে সেই গাড়ির মালিক এক বিজেপি নেতা ও সেই গাড়িতে বিজেপির একটি বোর্ড লাগানো ছিল। এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট নেতাকে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের কাছে। এখনও পর্যন্ত গাড়ির মালিক ও চালক পলাতক। কিন্তু শ্রীদেবীর মৃত্যুর সংবাদের চাপে পিছনে চলে গেছে বিহারের এই খবর। এই ধরনের খবর জাতীয় সংবাদমাধ্যমে যে গুরুত্ব পায়, তা না হওয়ায় খানিকটা খুশি হতেই পারেন নীতিশ।

মানবাধিকার সংগঠন
শ্রীদেবীর খবরের বাড়াবাড়িতে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিয়ে সরব হয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে মুচমুচে খবর বড়, নাকি সিরিয়ায় রক্তাক্ত মানুষের খবর বড়। শ্রীদেবীর রহস্যমৃত্যুর খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সিরিয়া এমন ভাবে উঠে আসায় খুশি হতেই পারেন মানবাধিকার সংগঠনগুলি।