আইপিএলের যে সাত রেকর্ড ভাঙতে পারবেনা কেউ!

আর মাত্র কিছু দিন। এর পরেই শুরু হবে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি২০ টুর্নামেন্ট আইপিএলের একাদশ আসর। বিপ্ত ১০ বছরে আইপিএল ক্রিকেট বিশ্বকে বেশ কিছু চমক দেখিয়েছে। এই আইপিএলের কারণেই আজ ক্রিকেট বিশ্বে অনেকে তারকা খ্যাত পেয়েছেন। আইপিএল এমন কিছু রেকর্ড উপহার দিয়েছে যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তবে রেকর্ড মানেই ভাঙ্গা-গড়ার খেলা। নতুন এক রেকর্ড হওয়া মানেই সেটা ভেঙে নতুন আরেকটি রেকর্ডের পথচলা। কিন্তু কিছু কিছু রেকর্ড এমন যা ভাঙ্গা অনেকটা বামুন হয়ে আকাশের চাঁদ ছোয়ার মত ব্যাপার। গেইলের দ্রুততম শতক, সর্বোচ্চ সংখ্যক শতক কিংবা অমিত মিশ্রার তিন হ্যাটট্রিক- এ ধরণের রেকর্ডগুলো আদৌ ভাঙবে কিনা বা ভাঙলেও কবে নাগাদ ভাঙবে তা বলা প্রায় অসম্ভব। আসুন জেনে নেই সেই রকম কিছু আইপিএল রেকর্ড…

অমিত মিশ্রার তিন হ্যাটট্রিক
কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট শিকার করাই মুশকিল। সেখানে হ্যাটট্রিকের কথা চিন্তা করা তো এক প্রকার আকাশের চাঁদকে হাতে নেওয়ার মত বিষয়। আর সেই কাজটাই এক-দিবার নয় তিনবার করেছেন অমিত মিশ্রা। ২০০৮, ২০১১, ২০১৩ এই তিন আসরে হ্যাটট্রিকগুলো করেছিলেন অমিত।

চেন্নাইয়ের টানা আটবার কোয়ালিফায়ারে খেলা
চেন্নাই সুপার কিংস আইপিএলের অন্যতম সফল একটি দল। এই বছর আবার দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আইপিএলে ফিরছে তাঁরা। কিন্তু চেন্নাই অনন্য এক রেকর্ডের মালিক যা আর অন্য কেউ করতে পারেনি । সিএসকে একমাত্র দল যারা আইপিলে টানা আসর কোয়ালিফায়ার খেলেছে। হয়তো দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা না পেলে টানা টানা দশ বছরই খেলতো।

ক্রিস গেইলের ৬৬ বলে বিধ্বংসী ১৭৫
আইপিএল মানেই যেন গেইল। এই আইপিএলের বেশ কিছু রেকর্ডের মালিক এই ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। ২০১৩ সাল আইপিএলের ষষ্ঠ আসর। পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ব্যাঙ্গালুরুর ম্যাচ। সেই ম্যাচে গেইল করলেন এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। মাত্র ৬৬ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেন গেইল। ১৭টি ছয় আর ১৩টি চারে সাজানো এই ইনিংস খেলার মধ্য দিয়ে গেইল ভেঙ্গেছেন বেশ কিছু রেকর্ড-টি২০’তে এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান, দ্রুততম সেঞ্চুরি ও সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড।

গেইলের এক ওভারে ৩৭ রান
গেইলের ব্যাঙ্গালুরুতে অভিষেক হয় ২০১১ সালে। সে আসরে কোচি টাস্কার্সের বিপক্ষে ম্যাচে গড়েন আরেক বিশ্বরেকর্ড। প্রশান্ত পরমেশ্বরণের বলে এক ওভারে এক নো বলের সাহায্যে ৩৭ রান তোলেন গেইল। নো বলে সহ মোট ছক্কার মার ছিল ৪ টি এবং চারের মার ছিল তিনটি।

সোহেল তানভীরের ৬ উইকেট
আইপিএলের প্রথম আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন পাকিস্তানের সোহেল তানভীর। তখন ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা সোহেলের দূর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয় রাজস্থান রয়্যালস। সেই আসরে সোহেলের গড়া বোলিং রেকর্ড আজও অক্ষুন্ন। প্রথম পর্বে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে চার ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় শিকার করেন ৬ উইকেট। এরপর অ্যাডাম জাম্পা ছয় উইকেট পেলেও সেটা ছিল ১৯ রানের বিনিময়ে।

সুরেশ রায়নার টানা ম্যাচ খেলার রেকর্ড
১৬১ ম্যাচ খেলে ৩৪.১৩ গড়ে ৪৫৪০ রান নিয়ে আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সুরেশ রায়না। তাঁরও একটি রেকর্ড ভাঙা প্রায় অসম্ভব। কোনো এক ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে টানা ম্যাচ খেলার রেকর্ড। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চেনানাইয়ে থাকাকালীন সব ম্যাচে অংশ নিয়েছেন সুরেশ রায়না।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ
২০১৩ সালের ষষ্ঠ আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রান সংগ্রহ করে। পুনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে গেইলের ১৭৫ রান ও ভিলিয়ার্সের ১২ বলে ৩১ রানে ভর করে ২৬৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় বেঙ্গালুরু। একই সঙ্গে এটা টি২০’র ইতিহাসেই সর্বোচ্চ দলীয় রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬০ আর আইপিএলে ২৪৬।