আইসিসি আর ফিফার মধ্যে পার্থক্যটা এখানেই

ফুটবলের সবচেয়ে বড় সংস্থার নাম ফিফা। ফুটবলের অভিভাবক এই সংস্থাটি। সারা বিশ্বে ফুটবলকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিতে তাদের প্রচেষ্টার কমতি নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফুটবলকে ছড়িয়ে দিতে তারা বিভিন্ন দেশে দেশে ছোট বড় অনেক কার্যক্রম চালু করেছে। ফুটবলকে সারা বিশ্বে আরো জনপ্রিয় করতে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফুটবল যখন প্রথম শুরু হয় তখন দল ছিল কম। আস্তে আস্তে সেটা বাড়তে বাড়তে এখন দাড়িয়েছে ৩২ দলে। আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে দলের সংখ্যা হবে ৪৮টি। বিশ্বব্যাপী ফুটবলকে আরো জনপ্রিয় করতে এই দল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ফিফার। তাতে করে যারা কখনো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায়নি এমন অনেক দল চলে আসার সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। আর এভাবেই তো ফুটবল হয়ে উঠবে আরো জনপ্রিয়।

কিন্তু ঠিক বিপরীত পথে হাটছে ক্রিকেটের অভিভাবক আইসিসি। ক্রিকেটের এই সংস্থাটি দল বাড়ানো তো দূরের কথা, হয়তো বসে বসে ভাবছে কিভাবে দলের সংখ্যা আরো কমানো যায়।

এবারই দেখুন না, ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য র‍্যাংকিংয়ে সেরা আটটি দলকে রেখে বাকি দশটি দলকে খেলতে দেয়া হল বাছাই পর্ব। ক্রিকেটে দলের সংখ্যাই যেখানে হাতে গোনা কয়েকটা সেখানেও দল ছাটাই করার কত সুন্দর উপায়।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলতে হল ২ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্টইন্ডিজকে। বাছাই পর্ব থেকেই বিদায় নিল টেষ্ট মর্যাদা সম্পন্ন দল জিম্বাবুয়ে। পূর্ন সদস্য দলের মর্যাদা থাকা সত্তেও বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছেনা আয়ারল্যান্ডের। খুব কাছে গিয়ে বিদায় নিল স্কটল্যান্ড।

আইসিসিতে আবার মোরল রাষ্ট্রের আধিপত্য আছে। এই রাষ্ট্র গুলো আবার ক্রিকেটের অভিভাবক এই সংস্থাকেই মানেনা। নিজেদের মত করে ক্রিকেট পরিচালনা করে। ছোট রাষ্ট গুলোর সাথে খেলাই যেন অন্যায় তাদের কাছে। কারন, এই রাষ্ট্রগুলোর সাথে খেললে তাদের আর্থিক ভাবে ক্ষতি হয়। তাই এই ছোট দেশ গুলোর বিপক্ষে খেলা যাবেনা। ছোট দেশগুলোকে বড় দেশে সফর করতে দেয়া যাবেনা। কারন, টিকিটই বিক্রি হয় না। আইসিসিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এসব কার্যকলাপ করে তারা। আর আইসিসিও চলে তাদের মন মতই।

মুখে বলে ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। সেজন্য কাজ করছে আইসিসি। মনে মনে বলে পারলে আরো কিছু কমিয়ে দেয়া উচিত। বড় রাস্ট্রগুলো নিয়ে ট্রুনামেন্ট আয়োজিত হলে লাভ হবে বেশি।

কখনো শুনেছেন, ফিফার অন্তর্ভুক্ত কোন দেশ ছোট রাষ্ট্রের সাথে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে? তাহলে তো পর্তুগাল খেলতনা মিশরের সাথে। ব্রাজিলও যেতনা রাশিয়ার সাথে খেলতে। কিংবা কিছুদিন আগে ব্রাজিল জাপানের সাথে খেলেছিল সেটাও হতনা , আবার আর্জেন্টিনা গিয়েছিল নাইজেরিয়ায়। সেটাও হত না।

ফিফা যদি চিন্তা করত বেশি লাভের কথা, তাহলে ট্রুনামেন্টে দলও ৩২ থেকে ৪৮ করার চিন্তা করতনা। আইসিসির মতই দল আরো কমিয়ে দিত।

সাধারনত মানুষ একটা প্রীতি ম্যাচে যতটা চোখ রাখে তার চেয়েও বেশি রাখে বিশ্বকাপে। তাই ফিফা সেই বিশ্বকাপেই দল বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  ফিফার বিশ্বব্যাপী ফুটবলের প্রসার করতে চাওয়া আর আইসিসির ক্রিকেটের প্রসার করতে চাওয়ার মাঝে পার্থক্যটা এখানেই। দুই সংস্থার মধ্যে পার্থক্যটাও এটাই।