এক নজরে নিদাহাস ট্রফির বিশ বছর!

নিদাহাস একটি সংস্কৃত শব্দ। যার অর্থ ফ্রিডম বা স্বাধীনতা। নিদাহাস ট্রফির বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘স্বাধীনতা কাপ’। ১৯৪৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা ব্রিটিশদের শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে। প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বীপ রাষ্ট্রটি তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন জয়ন্তীতে তারা নানারকম আয়োজন হাতে নিয়ে থাকে। তারই একটি অংশ নিদাহাস ট্রফি।

১৯৯৮ সালে ছিল শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণ জয়ন্তী (গোল্ডেন জুবিলি)। সে উপলক্ষ্যে নিউজিল্যান্ড ও ভারতকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করেছিল নিদাহাস ট্রফির প্রথম আসর।

১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির প্রথম আসরে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ছাড়াও অংশ নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড ও ভারত। ওয়ানডে ফরম্যাটের সেই আসরে ফাইনাল খেলেছিল শ্রীলঙ্কা ও ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলি ও শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড রানের জুটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। তার ২০ বছর পর আয়োজিত হল দ্বিতীয় আসর।

২০১৮ সাল হচ্ছে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি তথা প্লাটিনাম জয়ন্তী। সে উপলক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করেছে নিদাহাস ট্রফির দ্বিতীয় আসর। যেখানে অংশ নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। অবশ্য বাংলাদেশ ও ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি এক বছর আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। প্রথম আসরটি ওয়ানডে ফরম্যাটে হলেও এবারের আসরটি হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।

১৯৯৮ সালের ১৯ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত হয়েছিল নিদাহাস ট্রফির প্রথম আসর। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি দল প্রত্যেকের সঙ্গে তিনবার করে মুখোমুখি হয়েছিল। শ্রীলঙ্কা ৬ ম্যাচের ৩টিতে জিতে, ১টিতে হেরে (২টি ম্যাচে কোনো ফল হয়নি) পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। ভারত ও নিউজিল্যান্ড বৃষ্টির বাগড়ার মধ্যে পরে। বৃষ্টির কারণে তাদের চারটি করে ম্যাচে কোনো ফল হয়নি। বাকি দুটি ম্যাচের ১টিতে জিতে ও ১টিতে হেরে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ফাইনালে যায় ভারত। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড খেলার সুযোগ পাওয়া দুটি ম্যাচের দুটিতেই হেরে বিদায় নেয়।

৭ জুলাই ফাইনালে ভারত প্রথম ব্যাট করতে নামে। উদ্বোধনী জুটিতে সৌরভ গাঙ্গুলি ও শচীন টেন্ডুলকার রেকর্ড ২৫২ রান তোলেন। টেন্ডুলকারের ১২৮ ও গাঙ্গুলির ১০৯ রানের ইনিংসে ভর করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৭ রান করে ভারত। জবাবে অরবিন্দ ডি সিলভার সেঞ্চুরিতে (১০৫) বেশ লড়াই করেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ৪৯.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩০১ রানের বেশি করতে পারেনি। ৬ রানের দারুণ জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

ফাইনালে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। আর ৩৬৮ রান করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অরবিন্দ ডি সিলভা।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পর্দা উঠছে নিদাহাস ট্রফির দ্বিতীয় আসরের। এবারের এই আসরে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ছাড়াও অংশ নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি উপলেক্ষ্য ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিদাহাস ট্রফির আয়োজন করেছে শ্রীলঙ্কা। এই টুর্নামেন্টের পর্দা উঠছে আজ। উদ্বোধনী দিন মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও হট ফেবারিট ভারত।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী ম্যাচ। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সঙ্গে এই সিরিজে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশও।

গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে তিনটি দলই তাদের নিয়মিত অধিনায়ক ছাড়া খেলবে। ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস চোটের কারণে দলের বাইরে। তাই তিন দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়করাই নেতৃত্ব দেবেন এই সিরিজ।

টানা সিরিজের ধকল কাটাতেই মূলত নিদাহাস ট্রফিতে বলতে গেলে দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েছে ভারত। বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, জাসপ্রীত বুমরাহদের বিশ্রামে রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে রোহিত শর্মা ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন।

দুই ফেবারিট ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠলেও বাংলাদেশ এই সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলবে আগামী ৮ মার্চ। প্রথম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। ১০ মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৪ মার্চ টাইগাররা নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে। আর ১৬ মার্চ লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহর দল।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারত ও শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দশ ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত। বাকি চারটিতে জয় শ্রীলঙ্কার। ভারতের বিপক্ষে শেষ সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই হেরেছে শ্রীলঙ্কা। ভারত আছে র‍্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে, শ্রীলঙ্কা অষ্টম স্থানে।

আগের পরিসংখ্যান ছাড়াও বর্তমান পারফরম্যান্সের বিবেচনায় এই টুর্নামেন্টে ভারতকেই ফেবারিট বলে এগিয়ে রাখছেন শ্রীলঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংকে। ম্যাচ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে দেখবেন ভারত সবার ওপরে। তারা সব সময় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থেকে শুরু করে। ভারতের হয়ে যারাই খেলুক না কেন, তারা এখনো খুবই শক্তিশালী দল।’

১৮ মার্চ এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে প্রতিটি দল চারটি করে ম্যাচ খেলবে।

ভারতের সম্ভাব্য একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, সুরেস রায়না, লুকেশ রাহুল, মানিশ পান্ডে, দিনেশ কার্তিক, দিপক হুদা, যুবেন্দ্র চাহাল, সারদুল ঠাকুর, অকসর প্যাটেল, উনাদকাট।

শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য একাদশ: কুশাল মেন্ডিস, ধানুসকা গুনথালিকা, কুশাল পেরেরা, উপুল থারাঙ্গা, ধাসুন সানাকা, থিসারা পেরেরা, দিনেশ চান্দিমাল, আকিলা ধনাঞ্জয়া, আমিলা অ্যাপোনসো, সুরাঙ্গা লাকমল, ধুসমন্ত চামিরা।