ক্রিকেটে বল টেম্পারিংয়ের মূল হোতা যারা

ক্রিকেটে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা এর আগেও বহুবার ঘটেছে। তবে সে সময় বিষয়টি নিয়ে এতো আলোচনা-সমালোচনা ঝড় ওঠেনি। কারণ এবার বল টেম্পারিংয়ে অভিযুক্ত হয়েছে ক্রিকেটের মহা পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। যা কেউ হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি। অবশ্য এ কারণে শাস্তিও পেয়েছেন অজি অধিনায়ক। তাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ও  ম্যাচ ফি’র পুরোটাই নিয়েছে আইসিসি।

তবে বিষয়টি হয়তো এতোটা আলোচিত হতো না। যাদি না শাস্তির পরিমাণটা বেশি হতো। এতো বড় অপরাধে মাত্র এক ম্যাচ নিষিদ্ধ যা সাবেক ক্রিকেটারদের চোখে আইসিসি অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সহানুভুতি হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে সাবেক অনেক ক্রিকেটার আইসিসিকে দুর্বল সংস্থা বলেছন। এমনকি এমন ঘটনায়ঁ আইসিসিকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ এমনকি ‘ভীতু’ বলে সাবেক ক্রিকেটাররা।

এ ঘটনায় প্রতারণার জন্য আইসিসির হৃদয়স্পর্শী শাস্তি! এমন মশকরা করে টুইট করেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন। ভনের সাবেক সতীর্থ কেভিন পিটারসন বলেছেন আইসিসি একটি দুর্বল সংস্থা।

বল টেম্পারিং নিয়ে উত্তজিত গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। বল টেম্পারিং করার পর এই নিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তি ক্রিকেট দল বল টেম্পারিং করতে পারে তাই নিয়ে হতবাক সবাই। তাইতো একেপর এক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তি ক্রিকেট দল যখন সমালোচত তখন নতুন এক তথ্য ফাঁস করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

নিজেদের উদাহরণ টেনে সুজন জানিয়েছেন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার থেকে খেলার দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও কখনো বল বিকৃতি করার মতো ঘটনার সাথে লিপ্ত হয়নি। তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের ম্যাচগুলোতে যখন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা খেলতে আসতো তখন এই নজীর দেখা যেত প্রায়শই।

সুজন বলছিলেন আমরা সবসময় ফেয়ার (সঠিক) ক্রিকেট খেলেছি। আমাদের এমন (টেম্পারিং করার) বিশেষজ্ঞও নেই বলতে গেলে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি অনেক খেলোয়াড় লিগ খেলতে আসতো। ঢাকা লিগে এটা অনেক হতো। অনেক অভিযোগ ছিল এটা নিয়ে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে দেখবেন কোনো বোলার প্রথম ৫ ওভারে ৪০ রান দিত, পরে ৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিত। বল রিভার্স হতো এই (বল বিকৃতি) কারণে। পাকিস্তানিরা যখনই আসত এটা হতো। ধরে নিতাম যে তারা আসলে এটা জানে বা করে।

বাংলাদেশে এর আগে ডিপিএল আসরে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে সেই সুযোগটি অনেক কম বলে মনে করেন সুজন। যদিও এটিকে খেলার একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি। বল টেম্পারিং করতেও অনেক কৌসুলি হতে হয় বোলারদের উল্লেখ করে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, প্রিমিয়ার লিগে এখন সুযোগটা কম। আগে তিনজন (একাদশে বিদেশি খেলোয়াড়) খেলতো, এখন একজন খেলে। বিপিএলে কিছু ক্ষেত্রে হচ্ছে না যে তা না। হয়তোবা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারি না। এটা যারা করে তারা অনেক ট্যাক্টফুলি করে, অনেক পন্থা অবলম্বন করে। এটা ফেয়ার না। কিন্তু অনেক লিজেন্ড প্লেয়াররা এটা করেছে, কাজেই এটাকে খেলার অংশই বলতে হবে এখন।