গোপন রাখা হয়েছিল নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বেহাল অবস্থার

বেড়িয়ে আসছে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বেহাল অবস্থার নানা তথ্য। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও এর ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। গত ছয় বছর ধরে সংস্কার কাজ চলছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। ছয় বছর ধরে সংস্কার কাজ চলছে মাত্র ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বিমানবন্দরটির। আর এতদিন ধরে এ গোপন রাখা হয়েছিল।

গত সোমবার বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিমানসংস্থা ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর এ গোপন সংবাদ সামনে এলো।বিমান বিধ্বস্তে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে সবশেষ ৫১ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে।

এদিকে বিমানবন্দরটিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো বিমান অবতরণের পর এখন পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিমানের পাশাপাশি সেখানে হেলিকপ্টারও বিধ্বস্ত হয়েছে। আর সবশেষ দুর্ঘটনার শিকার হলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি।

নেপালের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছে। পাশাপাশি একের পর এক বিমান দুর্ঘটনার কারণে এই বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

নেপালের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ছয় বছর আগে ন্যাশনাল প্রাইড প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের পরিধি বাড়ানো শুরু হয়। কিন্তু তাদের অভিযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানির অবহেলার কারণে সেটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

এদিকে এ ধরনের ঘটনার কারণে স্প্যানিশ কোম্পানি সানহাআস কন্সট্রাক্টর এর সঙ্গে তিন মাস আগেই চুক্তি বাতিল করে নেপালের সরকার।

তারা বলছে, ওই কোম্পানি ৬ বছরে মাত্র ২০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। এখন অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে মিলে তারা বন্দরের চারটি অংশের সংস্কার কাজ শুরু করেছে।

এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সানজিভ গৌতম বলেছেন, চীনা একটি কোম্পানি তিন মিটার দৈর্ঘ্য টানেল, টার্মিনাল ভবন, টার্মিনাল ভবনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করছে।

তিনি বলেছেন, এনক্লাসি ভবন এবং টার্মিনাল বিল্ডিং এর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে।

২০১২ সালে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পরিসর বাড়ানোর জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয় সেটাতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ৬০০ কোটি রুপি সহায়তা করেছে। এয়ারক্রাফট পার্কিংয়ের জন্য আরও ১৩টি স্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।