গ্রেফতার হলো কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামি বাবুল
The news is by your side.

গ্রেফতার হলো কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামি বাবুল

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে কিশোরী বিউটি আক্তারকে এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণ এবং মামলা করায় ফের ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ও মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ মার্চ) সকালে সিলেট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান র‌্যাবের এক কর্মকর্তা।

নিহত বিউটি আর অভিযুক্ত বাবুল মিয়া শায়েস্তাগঞ্জের একই গ্রাম ব্রাহ্মনডোড়ার বাসিন্দা৷ বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই তাকে যৌন হয়রানি করে আসছিল।

কারণে স্কুল ছেড়ে বিউটি একটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়৷ তারপরও সে রেহাই পায়নি৷ যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে গত ২১ জানুয়ারি বিউটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল ও তার সহযোগীরা৷ এরপর অজ্ঞাত স্থানে এক মাস আটকে রেখে বিউটিকে ধর্ষণ করে বাবুল৷

পরে গত ২১ ফেব্রুয়ারি কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে বাবুল পালিয়ে যায়৷ এরপর ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চানকে আসামি করে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন৷ ৪ মার্চ আদালত শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে এ মামলার আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়৷

বিউটির নিরাপত্তার কথা ভেবে গত ১৬ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বিউটিকে তার নানার বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেন৷ ওই দিন রাতেই নানা বাড়ি থেকে আবার বিউটিকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল৷

পরদিন ১৭ মার্চ সকালে হাওরে বিউটির লাশ পাওয়া যায়৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তাকে৷ লাশ উদ্ধারের পরদিন শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বাবুলসহ দু’জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়৷ মামলা দায়েরের পর পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও ঈসমাইল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে৷

জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামে মৃত মলাই মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। ২০১০ সালে তার গ্রামের তৌহিদ মিয়ার মেয়ে, সিলেটের এক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পরও সে একাধিক নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অত্যাচার চালিয়েছে। রাস্তাঘাটে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করেছে।