তামিমের ব্যাট আরও ক্ষুরধার!

শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির রানার্স আপ হয়ে বাংলাদেশ দল কাল দেশে ফিরলেও তামিম ও মাহমুদউল্লাহ পিএসএল খেলতে কলম্বো থেকে উড়ে গেছেন লাহোরে। বাঁচা-মরার ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের মুখোমুখি হয় তামিমের পেশোয়ার জালমি।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নওয়াজের প্রথম চার বলে দুই চার হাঁকান তামিম। এরপরই নামে বৃষ্টি। বেশ কিছুক্ষণ পর আবার খেলা শুরু হলে পেশোয়ারও যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলে।

২০১০ সালের  ২০ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এর দুই বছর পর এশিয়া কাপে ঠিক একই দিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫৯। এই ২০ মার্চের আশপাশের দিনগুলোতে অবশ্য তামিমের ব্যাট আরও ক্ষুরধার!

২০০৭ বিশ্বকাপের ১৭ মার্চ। ভারতের বিপক্ষে সেই জয়ে ডাউন দ্য উইকেট এসে জহির খানকে তামিমের উড়িয়ে মারার দৃশ্যটা ভুলতে পেরেছেন? সেদিন তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫১। পরের বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জন্মদিনের এক দিন পর খেলেছিলেন ১২৯ রানের ইনিংস। ২০১০ সালের ১৩ মার্চ, চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করলেন ৮৬।

টি-টোয়েন্টিতে জন্মদিন কিংবা এর আশপাশের দিনে তামিমের ব্যাট সেভাবে হাসেনি! টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান সুপার লিগে গতকাল ২৯-এ পা দিয়েও তাঁর ব্যাট স্বাভাবিক! জন্মদিন আশপাশে এলেই তামিমের ব্যাট চওড়া হয়।

২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে নিজের ২৫তম জন্মদিনে হংকংয়ের মুখোমুখি হয়ে নির্ভেজাল ‘ডাক’ মেরেছিলেন। সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফির কথাই ধরুন। এই টি-টোয়েন্টি আসরের ফাইনাল খেললেন ১৮ মার্চ। অর্থাৎ জন্মদিনের এক দিন আগে। সেদিন ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে বাংলাদেশের এ ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৫ রান।

সেই ফাইনালের এক দিন পর গতকাল নিজের ২৯তম জন্মদিনে অবশ্য পাকিস্তান সুপার লিগে ফিরেই বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তামিম। কিন্তু ফিরেছেন ৫ বাউন্ডারিতে ২৯ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের কোহলার-ক্যাডমোর তাঁর ক্যাচ নিয়েছেন তিনবারের চেষ্টায়! তামিমের দলও অবশ্য বেশি দূর যেতে পারেনি। এলিমিনেটর ম্যাচে ১৫৭ রানেই গুটিয়ে গেছে পেশোয়ার জালমি।

এ ম্যাচে তামিমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ মাহমুদউল্লাহ। জালমির ইনিংসে অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে মোহাম্মদ হাফিজকে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। নিজের প্রথম ওভারেই মাত্র ৩ রানে ১ উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ওভারে ১৭ রান দেওয়ায় মাহমুদউল্লাহ আর হাত ঘোরানোর সুযোগ পাননি।