‘তুই পুলিশ হইছিস তাই কী হইছে’ বলেই পিটুনি..
The news is by your side.

‘তুই পুলিশ হইছিস তাই কী হইছে’ বলেই পিটুনি..

‘তুই পুলিশ হইছিস কী হইছে’ বলেই তাদের পেটাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। দুই পুলিশের অপরাধ সন্ত্রাসীদের অনুমতি না নিয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।

বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বগুড়া শহরের গোহাইল রোড এলাকায়। পরে অন্য পুলিশ গিয়ে আহত দুই সদস্যকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এএসআই মাহবুবুল আমল ও কনস্টেবল মোস্তাকিম হোসেন কর্তব্য পালনের জন্য শহরের গোহাইল রোডে সুজুকি মোটরসাইলের শো-রুমে অবস্থান করছিলেন। মূল সড়কের পাশের গলিতে দাঁড় করানো ছিল তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি। মিনিট পনেরো পরে সেখানে গিয়ে দেখেন তাদের মোটরসাইকেলের দুই চাকার হাওয়া নেই। পাশেই চেয়ার পেতে বসে ছিল চার ব্যক্তি। কে হাওয়া ছেড়েছে তাদের কাছে জানতে চাইলে একজন জানান, তিনি ছেড়েছেন। এর কারণ জানতে চাইলে চার যুবক আক্রমণ করে দুই পুলিশের ওপর।

এএসআই মাহবুব ও কনস্টেবল মোস্তাকিম নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলে চার যুবক তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ‘তুই পুলিশ হইছিস তাতে কী হয়েছে, আমরা আলহাজ শেখের লোক’ বলে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় তারা বলে, ‘আমাদের অনুমতি না নিয়ে এখানে এসেছিস কেন?’

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই চার সন্ত্রাসী নিজেদের যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখের লোক বলে পরিচয় দেয়। বলে, ‘আমরা আলহাজ ভাইয়ের লোক। ডিসি-এসপি আমাদের কথায় ওঠে-বসে।’ মারধরের পর দুই পুলিশকে আটকে রাখে তারা। পরে মোবাইল ফোনে বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হামলাকারী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয় মামলায় তারা হলেন, শাজাহানপুর উপজেলার পদ্মগাড়ী গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে স্বপন মিয়া, বগুড়া সদরের নাটাইপাড়া বউবাজার এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে মাহিদুল হাসান (১৯), সদরের সূত্রাপুরের শেখ শাহ আলমের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৮), একই এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে মমিনুল ইসলাম (২৫)।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত হন যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখ। তিনি পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এটা আমার এলাকা, আমার কথামতো চলতে হবে। এখানে ডিসি-এসপি আমার কথায় ওঠে-বসে।

হামলার শিকার এএসআই মাহবুবুল আমল জানান, সন্ত্রাসীদের আক্রমণে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। তার পকেট থেকে ২৭০০ টাকা নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা।