নেইমার পায়ের পাতায় লাগানো হয়েছে স্ক্রু

অস্ত্রোপচার হয়ে গেল নেইমারের। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, ব্রাজিলীয় তারকার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তবে নেইমার ঠিক কতদিনে সুস্থ হতে পারেন সেটা নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারেনি।

বিশ্ব জুড়ে নেইমার এবং ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের মনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, রাশিয়ায় আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে না তিনি ছিটকে যান। নেইমার চোট পান পিএসজিতে খেলার সময়। কিন্তু তাঁকে তড়িঘড়ি নিজেদের দেশে নিয়ে এসে বেলো হরিজন্তের হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। তার প্রধান কারণ, নেইমারর যাতে সফল অস্ত্রোপচারের পরে বিশ্বকাপের জন্য ঠিক সময়ে সেরে ওঠেন, সেটা নিশ্চিত করা।

পিএসজি-র হয়ে ফরাসি লিগে মার্সেই-এর বিরুদ্ধে খেলার সময় ডান পায়ের পাতার হাড় ভেঙে (ডাক্তারি ভাষায় পঞ্চম মেটাটার্সাল) যায়। ডান পা-ই নেইমারের প্রধান অস্ত্র। বিশ্বকাপের ঠিক একশো দিন আগে সেই ‘সোনার পা’-তে চোট পেলেন নেমার। ব্রাজিলে গত বিশ্বকাপের আতঙ্ক ফিরিয়ে স্ট্রেচারে করে বেরিয়ে যেতে হয় কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমার-কে। তার পরেই বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। এ দিন সফল অস্ত্রোপচারের খবরে অন্তত সাময়িক স্বস্তি ফিরবে সকলের মধ্যে। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে প্রাথমিক ভাবে শুধু এটুকুই জানানো হয়েছে যে, নেইমার সুস্থ আছেন। তাঁকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করেও নেওয়া হয়েছে। একই খবর ঘোষণা করা হয়েছে তাঁর ক্লাব পিএসজি-র পক্ষ থেকেও।

ব্রাজিলের কয়েকটি সংবাদপত্রের মতে, প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক নেইমার-কে অপারেশন থিয়েটারে কাটাতে হয়েছে। ডাক্তারদের টিমকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্রাজিলের ফুটবল দলের শল্য চিকিৎসক রদরিগো লাসমার। শোনা যাচ্ছে, ভেঙে যাওয়া হাড়কে দ্রুত সারিয়ে তুলতে তাঁর পায়ের পাতায় স্ক্রু লাগানো হয়েছে। পিএসজি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্লাবের ফিজিওথেরাপিস্ট দেখার পরে রিহ্যাবিলিটেশনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। ছয় সপ্তাহের মধ্যে নেইমারের পায়ের পাতার অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট পেশ করবেন ডাক্তাররা। একমাত্র তখনই ধারণা পাওয়া যেতে পারে যে, তিনি কবে মাঠে ফিরতে পারবেন।

অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার প্রাথমিক খবর প্রকাশের সময় জানানো হয়েছে, নেইমার-কে ‘রিকভারি রুম’-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর মা এবং চার জন বন্ধু রয়েছে। ডাক্তারেরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে অস্ত্রোপচার সফল ভাবেই হয়েছে। যদিও পাপারাৎজি-দের ঠেকাতে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল হাসপাতাল।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন নেইমারের অস্ত্রোপচারের বিষয়টি নিজেদের হাতে তুলে নিলেও পিএসজি একেবারে হাত গুটিয়েও বসে নেই। রেকর্ড অর্থে তারা বার্সেলোনা থেকে ব্রাজিলীয় তারকাকে তুলে নিয়েছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কয়েক দিনের মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ফিরতি ম্যাচ খেলতে নামছে ফ্রান্সের ক্লাবটি। প্রথম লেগে তারা ১-৩ হেরেছিল। নেমারের চোট দ্বিতীয় লেগে প্রত্যাবর্তনের আশায় জল ঢেলে দিতে পারে। কিন্তু পিএসজি তাদের নিজেদের ডাক্তারি পরামর্শদাতাকে ব্রাজিলে পাঠিয়েছে নেইমারের পাশে থাকার জন্য। এ দিন আবার ট্রয়েসকে ফরাসি লিগে ২-০ হারিয়ে পিএসজি জয় উৎসর্গ করল নেইমারকে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে। মাঝে থাকছে সাড়ে তিন মাস মতো সময়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের সেরা ছন্দে আসতে গেলে বিশ্বকাপের অন্তত এক মাস আগে সুস্থ হয়ে উঠতে হবে নেইমার-কে। অর্থাৎ, তাঁকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতেই হবে দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে। প্রাথমিক ভাবে আশঙ্কা তৈরি হলেও সফল অস্ত্রোপচারের পরে ব্রাজিলের ডাক্তারেরা আশাবাদী, সেটা সম্ভব। ব্রাজিল দলের ডাক্তার রদরিগো বলেছেন, ‘‘নেইমার খুব হতাশ, কিছুটা দুঃখীও। আবার এটাও বুঝতে পারছে যে, ধৈর্য ধরে যত দ্রুত সম্ভব সেরে ওঠা ছাড়া উপায় নেই।’’