প্রথমে ফেসবুক ফ্রেন্ড পরে সুযোগ বুজে ডাকাতি
The news is by your side.

প্রথমে ফেসবুক ফ্রেন্ড পরে সুযোগ বুজে ডাকাতি

গৃহবধূর বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে ভরসন্ধ্যায় দুঃসাহসিক ডাকাতির তদন্তে নেমেছিল পুলিশ। শেষে যে তথ্য তদন্তকারীদের সামনে উঠে এল, তাতে পুলিশ অফিসার ই অবাক। জানা গেল, গৃহবধূর এক ফেসবুক ফ্রেন্ডই ডাকাত দলের মূল নেতা !

বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরে গত রবিবার সন্ধ্যায় হওয়া দুঃসাহসিক ডাকাতির কিনারা করতে গিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে লুঠ হওয়া বেশ কিছু সামগ্রীও।

গত রবিবার ভরসন্ধ্যায় বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরে স্বপ্না কুণ্ডু নামে এক গৃহবধূর বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাড়িতে ঢুকে তিন দুষ্কৃতী অস্ত্র দেখিয়ে স্বপ্নাদেবীকে বেঁধে রেখে বেশ কয়েক ভরি গয়না এবং নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।

ঘটনার তদন্তে নামে বাগুইআটি থানার পুলিশ। ওই গৃহবধূ পুলিশকে জানান, কলিং বেল বাজিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। দরজা খুলতেই তারা জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে। এর পরেই শুরু হয় লুঠপাট। দুষ্কৃতীরা মাথায় হেলমেট পড়েছিল বলে জানান ওই গৃহবধূ।

গৃহবধূর বয়ানে তদন্তকারীদের ধারণা হয়, দুষ্কৃতীরা পূর্বপরিচিত। সেই সূত্রে তদন্তকারীরা ওই গৃহবধূর মোবাইল পরীক্ষা করেন। সেখানেই তদন্তকারীরা দেখতে পান, এক যুবকের সঙ্গে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে কথা হত ওই গৃহবধূর। দু’জনের মধ্যে যে যথেষ্ট ‘বন্ধুত্ব’ রয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে সে বিষয়ে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। জানা যায় তার নাম সঞ্জীব দাস। প্রাথমিকভাবে ওই যুবকের উপরেই সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের।

এর পরে মঙ্গলবার রাতেই বাগুইআটির সাতগাছি এলাকা থেকে সঞ্জীব এবং তার দুই সঙ্গীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা তিনজনই ডাকাতি করেছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবরে জানা ।

ধৃতদের প্রাথমিক জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, সঞ্জীবই ডাকাতির ছক কষেছিল। বেশ কয়েকমাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে স্বপ্নাদেবীর সঙ্গে তার আলাপ হয়। দু’জনে মোবাইল নম্বরও আদানপ্রদান করে। স্বপ্নাদেবীর বাড়িতেও তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় কথাও চলত। ফলে, কখন স্বপ্নাদেবী বাড়িতে একা থাকেন, তা সহজেই জানত সঞ্জীব। সেই অনুযায়ী ডাকাতির ছক কষে সে।