বাবার সাথে অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহঃ মেয়েকে খুন করল মা

বাবার সাথে মেয়ে অবৈধ সম্পর্ক এমন সন্দেহে মেয়ের গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে খুন করলেন ৪ সন্তানের মা।ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ে। ৩৬ বছর বয়সী ওই মাকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাইয়ের খরঘর থানার পুলিশ।খরঘরের একটি ফ্ল্যাটে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তের স্বামী একজন সিভিল কন্ট্রাক্টর। বহুদিন ধরেই অভিযুক্ত গৃহবধূ নিজের মেয়েকে সন্দেহ করতেন।

স্বামীর সঙ্গে মেয়ের শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহে মার্চের ৪ তারিখে, দুপুর নাগাদ, মেয়ের গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে খুন করেন তিনি। স্বামী বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে এসে দেখেন, বেডরুমে শুয়ে রয়েছে তাঁদের মেয়ে।

স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছে মেয়ে। বিকেল ৪টার সময় মেয়েকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য ডাকাডাকি শুরু করেন অভিযুক্ত নিজেই। এরপরই স্বামীকে ফোন করেন তিনি। বাবা ঘরে এসে দেখেন, মেয়ে তখনও বিছানায় একইভাবে ঘুমিয়ে রয়েছে। পরে ওই স্কুলছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হলে ফ্ল্যাটে এলাকাবাসীরা ও আত্মীয়স্বজনরা ভিড় করতে শুরু করে দেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। মৃতার গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ণ দেখতে পাওয়া গেলে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

তদন্তের সময় নিহতের স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, গত ৬ মাস ধরে মেয়েকে সন্দেহ করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল অভিযুক্ত মার। বাবার সঙ্গে মেয়ের শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে, এই বলে নানাভাবে সন্দেহ করত তাঁর মা। এই কারণে স্বামী বা মেয়ে, যে কোনো একজনকে খুন করার হুমকিও দিতেন বলে জানিয়েছিল মৃত স্কুলছাত্রী। মায়ের এই সন্দেহের কারণে অবসাদে ভুগতে শুরু করে সে। ফেব্রুয়ারিতে একবার আত্মহত্যাও করতে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে স্কুলের এক বান্ধবী।

থানায় জেরা করা হলে নিজের কুকীর্তির কথা স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত মা। তিনি জেরায় জানিয়েছেন, হোলির পর, দুপুরে একা পেয়ে, মেয়ের গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে খুন করেছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া