বিশ্ব কাপানো যে পাঁচ খেলোয়ারের বিশ্বকাপই খেলা হয়নি

ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের জন্য ছিলেন ত্রাস। খেলোয়ারী জীবনে নিজেদের নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। খেলেছেন নামী দামী সব ক্লাবে। কিন্তু সেই তারদেরই খেলা হয়নি দেশের জার্সিতে মর্যাদার বিশ্বকাপ!

ক্লাবে জিতেছেন একের পর এক শিরোপা। পেয়েছেন লিজেন্ড উপাধি। কিন্তু এই সকল লিজেন্ডরা দেশের জার্সিতে আপ্রান চেষ্টা করেও খেলতে পারেনি বিশ্বকাপ। তেমনই পাঁচজন বিশ্বকাপানো ফুটবলার কারা দেখে নিন।

১. রায়ান গিগস (ওয়ালেশ): ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে সফল ফুটবলারদের একজন রায়ান গিগস। সে যতগুলো শিরোপা জিতেছে অনেক ক্লাবই এত শিরোপা জিতেনি। ম্যানইউর এই লিজেন্ড ১৩টি লিগ শিরোপা, ২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৪টি এফএ কাপের শিরোপা জিতেছেন ক্লাব ক্যারিয়ারে। অথচ এই লিজেন্ড জাতীয় দল ওয়ালেশের হয়ে ৬৪টি ম্যাচ খেললেও বিশ্বকাপ খেলা হয়নি একটিবারও। সর্বশেষ রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য বাছাই পর্বেই বিদায় নিতে হয়েছে ওয়ালেশকে।

২. এরিক ক্যান্টোনা (ফ্রান্স): পাঁচ বছরে চারটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, দুটি এফএ কাপ শিরোপা জিতেছেন। তাকে বলা হত কিং ক্যান্টোনা। ম্যানইউতে খেলা কিং উপাধি পাওয়া এই তারকা ফ্রান্সের হয়ে ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৮৭ সালে অভিষেক হওয়া এই তারকা গোলও করেছেন ২০টি। কিন্তু খেলা হয়নি সাধের বিশ্বকাপ। ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকলেও সেবার তাদের দলই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি।

৩. জর্জ ওয়াহ (লাইবেরিয়া): লাইবেরিয়াতে তাকে বলা হত কিং ওয়াহ। ফ্রান্স, ইতালি, ইংল্যান্ড, স্পেনের বিভিন্ন ক্লাব মাতিয়েছেন এই তারকা। ১৯৮৮ সালে মোনাকো থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন আর্সেনালে। চার বছর পর আবারো আসেন পিএসজিতে। ১৯৯২ সালে জিতেন লীগ শিরোপা। ১৯৯৪ সালে হন শীর্ষ গোলদাতা। ১৯৯৫ সালে চলে যান এসি মিলানে। চার বছরে ২টি লীগ শিরোপা জিতেন সেখানে। ১৯৯৫ সালে ব্যালন ডি অরও জিতেন তিনি।

ক্লাবে এত সব শিরোপা জিতা এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে ৬০ ম্যাচে করেন ২২ গোল। কিন্তু খেলা হয়নি পরম সাধনার বিশ্বকাপ।

৪. জর্জ বেষ্ট (নর্দান আয়ারল্যান্ড): গতি, স্কিল, ব্যালেন্সড, দুই্ পায়ের দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতা, তার সময়ে অন্যতম সেরা তারকাই ছিলেন জর্জ বেষ্ট। ম্যানইউকে লীগ শিরোপা, ইউরোপিয়ান কাপ জিতানো এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেনি বিশ্বকাপ। তার সময়ে ১৯৯৬, ৭০ এবং ৭৪ সালে নর্দান আয়ারল্যান্ড ব্যর্থ হয় বিশ্বকাপে কোয়ালিফাইং করতে।

৫. আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (আর্জেন্টিনা/স্পেন): রিয়াল মাদ্রিদের সোনালী যুগের তারকা স্টেফানো। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬০ সালে টানা পাঁচটি ইউরোপিয়ান কাপ জিতিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকে। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে সেরা খেলোয়ারদের তালিকায় উপরের সারির এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে আর্জেন্টিনা এবং স্পেন দুই দলেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, কোন দলের হয়েই বিশ্বকাপ খেলা হয়নি।

আর্জেন্টিনার হয়ে ৬টি ম্যাচ খেলেছেন এই তারকা। গোলও করেছেন ৬টি। আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন কোপা আমেরিকার শিরোপা। স্পেনের হয়ে খেলেছেন ৩১টি ম্যাচ। করেছেন ২১টি গোল। কিন্তু খেলা হয়নি বিশ্বকাপ। ১৯৫৪ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। ১৯৫৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে অনুরোধ করে স্পানিশ নাগরিকত্ব নিয়ে নেন। তারপর যোগ দেন স্পেন দলে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, ১৯৫৮ বিশ্বকাপে স্পেন কোয়ালিফাই করতে পারেনি। এরপর ১৯৬২তে স্পেন বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে। কিন্তু এবার তার দুর্ভাগ্য ইনজুড়ির কারনে তার সেই বিশ্বকাপেই খেলা হয়নি।