বিয়ের ঠিক আগেই গণপিটুনি দিল বরকে, কেন?

মেয়ের বিয়ে দিতে সুপাত্র খুঁজছিলেন বাবা। মিলেও গিয়েছিল সুপাত্রের সন্ধান। কিন্তু কে জানত, যাকে সুপাত্র মনে করে মেয়ের পরিবার খুশি মনে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়ে গিয়েছিল, সে আসলে একজন মস্ত প্রতারক!

আসলে এই পাত্রের ফন্দি ছিল স্কুল শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বিয়ে করে কনের বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ মোটা টাকা হাতানো। কিন্তু তা করতে গিয়ে নিজের জালেই জড়িয়ে পড়ল প্রতারক পাত্র।

কয়েকদিন আগেই চন্দ্রকোণায় লক্ষ্মীপুরের এক যুবতীর সঙ্গে কেশপুরের উত্তর পিয়াশালা গ্রামের বাসিন্দা অজিত পাঁজার বিয়ের ঠিক হয়। মেয়ের বাড়ির লোকেদের দাবি, অজিত প্রথম থেকেই প্রচুর পরিমাণে যৌতুক দাবি করে। কিন্তু ভাল পাত্র হাতছাড়া করতে নারাজ মেয়ের বাবা অজিতের সব কথায় রাজি হয়ে যান। আগামী সোমবারই ওই যুবতীর সঙ্গে অজিতের রেজিস্ট্রির দিন ঠিক হয় বলে জানা গিয়েছে। মেয়ের বাড়ির কাছে অজিত নিজেকে কোতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে দাবি করেন।

কিন্তু তাল কাটল শনিবার। আচমকাই মেয়ের মামা ও মামি অজিতের স্কুলে যান তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। স্কুলে গিয়ে দেখেন, অজিতকে বেঁধে রেখে বেধড়ক মারধর করছেন এলাকার বাসিন্দারা। তার পরের ঘটনা শুনেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তাঁদের।

জানা গিয়েছে, অজিত আদৌ স্কুলের শিক্ষক নন। পেশা ভাঁড়িয়ে বিয়ে করে যৌতুক হাতিয়ে নেওয়াই ফন্দি ছিল তাঁর। শনিবার মেয়ের মামা ও মামি স্কুলে আসছেন শুনেই অজিত আগেভাগেই স্কুলে চলে যান। সন্দেহ হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের। খবর দেওয়া হয় এলাকার বাসিন্দাদের। শেষ পর্যন্ত তাঁদের চাপের কাছেই ভেঙে পড়েন অজিত। তাঁর কাছ থেকে গোটা ঘটনা শুনে ওই বিদ্যালয়েই আটকে রাখেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে তাঁদের কাছ থেকে গোটা ব্যাপারটি জানতে পারেন মেয়ের বাড়ির লোকেরা।

ইতিমধ্যে অজিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিয়ের আগেই প্রতারক বর ধরা পরে যাওয়ায় স্বস্তিতে মেয়ের পরিবার।