মায়ের বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্ন কেড়েনিল বিমান

হাতের মেহেদির রঙ না শুকাতেই পাড়ী জমাতে হল ওপারে। এ তোমার কেমন নিস্টুর রীতি। হ্যা গত ৩ মার্চ ২০১৮। জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয় আঁখিমনি ও মিনহাজ বিন নাছিরের। ১২ মার্চ মধুচন্দ্রিমা পালনের জন্য রওনা হন নেপালের উদেশ্যে।গা থেকে একনো কাচা হলুদ আর মেহেদির রঙ শুক্লাই নি।কিন্তু পাড়ি দিতে হল না ফেরার দেশে।

মিনহাজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা হলেও বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। নতুন বউকে নিয়ে দাদার বাড়ী চট্টগ্রামে বেড়াতে আসার কথা ছিল মিনহাজের কিন্তু তা আর হলোনা আর কোন দিনই মিনহাজ আসবে না। চট্টগ্রামে স্বজনদের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম।

ছোট ছেলে মিনহাজকে বিয়ের পিঁড়িতে বসান মা ইলা। স্বপ্ন ছিল ছেলে ও বউকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই স্বামীর মতো বৌকে নিয়ে ছেলেও চলে গেল না ফেরার দেশে। মা একনো ভাবতে পারছেন না তার ছেলে ছেলের বউ লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরবেন।
ইলার বড় বোন মিলা ও বড় ভাই ইউসুফের সহপাঠী জিয়াউল হাসান টিটু জানান, খুবই মর্মান্তিক। ঘটনার পর থেকেই তার মা ছেলে ও পুত্রবধূর সংবাদ পেতে ছটফট করতে থাকেন। প্রথমে তাকে মৃত্যুর সংবাদটি দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য,গতকাল সোমবার ১২টা ৫১মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৭জন যাত্রী ও চারজন ক্রুসহ মোট ৭১ জনকে নিয়ে ইউএস-বাংলার বিমানটি ছেড়ে যায়।
সেখানে দুপুর ৩ টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এপর্যন্ত ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।