মৃত সন্তানকে রেখেই পরীক্ষা দিলেন মা

এখনো ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি গর্ভস্থ পুত্রসন্তানকে হারিয়েছেন। শরীরে সোজা হয়ে বসার মতো শক্তিও নেই। যন্ত্রণায় বিমর্ষ হয়ে রয়েছে মন। তবু মালদা মেডিক্যাল কলেজে বিছানায় শুয়েই উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষা দিলেন সন্তানহারা সায়েমা খাতুন। তাঁর মানসিকতার তারিফ করছেন চিকিৎসকেরাও।

মালদহের গাজোল থানার বৈরগাছির বাসিন্দা সায়েমা খাতুন। স্থানীয় রানিনগর হাই মাদ্রাসার ছাত্রী সায়েমার বিয়ে হয় বছর দেড়েক আগে। এ বছর তাঁর পরীক্ষার সিট পড়ে পুকুরিয়া হাইস্কুলে। গত মঙ্গলবারও সেখানেই উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা দেন সায়েমা।

কিন্তু বুধবার দুপুরে বাড়িতে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন সন্তানসম্ভবা ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ তাঁকে আনা হয় মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বিকেলে চিকিৎসক দল তাঁর সিজার করেন। কিন্তু মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি।
শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে। শোক গ্রাস করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সায়েমাকেও। একে সন্তানবিয়োগ, তার ওপর অস্ত্রপচারের ধকল। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষাগুলি তার আর দেওয়া হচ্ছে না, এমনটাই মনে করেছিল সকলেই।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে সকলকে অবাক করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছের কথা জানান সায়েমা। তড়িঘড়ি প্রসূতি বিভাগের একপাশে সায়েমার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দেয় শিক্ষা দফতরকে।

এর পরেই পুলিশ ও পরীক্ষক পাঠানো হয় মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আসে প্রশ্ন ও উত্তরপত্রও। শরীরের যা পরিস্থিতি, তাতে এখনও উঠে বসার সামর্থ নেই সায়েমার। তাই শয্যাশায়ী অবস্থাতেই পরীক্ষা দিতে হয় সায়েমা খাতুনকে। সন্তান হারালেও শিক্ষার সুযোগ হারাতে চান না শোকাতুর সায়েমা।