যে ৪ কারণে আটক থাকার শঙ্কায় খালেদা জিয়া

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়া। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেটি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন। কিন্তু আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন এবং শুনানির জন্য নতুন দিন ঠিক করেছেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হওয়ায় শঙ্কায় আছেন দলের নেতা-কর্মীরা। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান। কারণ খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে তিনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। যার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে। শীর্ষ একাধিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এর পেছনে চারটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। যে চার কারণে খালেদা জিয়াকে আটক রাখা হবে বলে মনে করেন:

১) আগামী নির্বাচনের আগে যাতে খালেদা জিয়া জনগণের কাছে যেতে না পারেন।

২) বিএনপিকে ভাঙা।

৩) খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে আগামী নির্বাচনের বাইরে রাখা।

৪) নির্বাচনকালীন সরকার-ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপিকে চাপে রাখার জন্য, যাতে বিএনপি এই দাবি নিয়ে নির্বাচনের আগে মাঠে নামতে না পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সকল প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি। নেত্রীর জামিনের চেষ্টা করছেন আমাদের আইনজীবীরা। ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কারলাইলকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি পরামর্শ দিবেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি বাস্তবায়নের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে। কারণ খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তিনি যাতে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের কাছে যেতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে গত সোমবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, এই আদেশে সরকারের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে দীর্ঘদিন রেখে দেওয়ার অর্থই হচ্ছে তাদের মতো করে একতরফা নির্বাচন দেখিয়ে আবার ক্ষমতায় চলে আসা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এরই মধ্যে বলেছেন, এটা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এটা ডিসাইডেড, ডান।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ভয় পাচ্ছে। এই জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হচ্ছে। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। টাকা চুরি মামলায় তাকে জামিন না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার যা করছে তা ভুল করছে।