সামরিক শক্তিতে কোন দেশ কতটুকু শক্তিশালী?

বর্তমানে বিশ্বে চলছে শক্তির প্রতিযোগিতা। কার থেকে কে বেশি শক্তিশালী হবে তা নিয়ে চলছে জোর প্রতিযোগিতা। তবে সামরিক শক্তির নিরিখে গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ২০১৭-র তালিকায় এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ তিনে থাকা বাকি দুই দেশ হল রাশিয়া ও চিন। তালিকায় চার নম্বরে আছে ভারত।

সামরিক শক্তির ৫০টি খুঁটিনাটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মিলিটারি রসদ, অস্ত্রশস্ত্রের ভাণ্ডার, প্রাকৃতিক সম্পদ, মানবসম্পদ, ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র। সংখ্যার নিরিখে ভারতে সশস্ত্র সেনাবহর খুব বড় হওয়ায় এই তালিকার উপরের দিকে রয়েছে ভারত, মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার তালিকা জানাচ্ছে, ভারতে এই মুহূর্তে ৪২,০৭,২৫০ জন সশস্ত্র সেনা রয়েছে। তুলনায় চিনের রয়েছে ৩৭,১২,৫০০ জন সেনা। রিজার্ভ ফোর্সের নিরিখেও চিনকেও টেক্কা দিয়েছে ভারত। ভারতের হাতে রয়েছে ২৮,৪৪,৭৫০ জন জওয়ান। চিনের কাছে রয়েছে মাত্র ১৪,৫২,৫০০ জন। তবে এই তালিকার তুল্যমূল্য বিচারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশেরই পারমাণবিক শক্তিকে বাদ রাখা হয়েছে। তবে নিউক্লিয়ার সক্ষমতাকে গণ্য করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাজেটকেও তালিকাটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। চিনের এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণও এটি। কারণ বেজিং প্রতি বছর ভারতের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি বাজেট বরাদ্দ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে।

এই তালিকার সেরা ১০-এ রয়েছে ফ্রান্স, ব্রিটেন, তুরস্ক, জার্মানির মতো দেশ। তবে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে চিন ও রাশিয়ার মধ্যে জোর টক্কর হয়েছে সাম্প্রতিক তালিকায়। কারণ, রণতরী, যুদ্ধবিমান, সাঁজোয়া গাড়ির নিরিখে দুই দেশই প্রায় সমান সমান হলেও চিনা সামরিক শক্তির দ্রুতই ক্ষয় হচ্ছে। প্রতি বছরই তাদের পুরনো অস্ত্রগুলির মেয়াদ ফুরোচ্ছে।

পাকিস্তান সবদিক থেকেই ভারতের চেয়ে ঢের পিছিয়ে। অ্যাটাক হেলিকপ্টার, জলযান, কামানের সংখ্যা- সব ক্ষেত্রেই ইসলামাবাদ বহু যোজন পিছিয়ে। এই তালিকার শেষে গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার উল্লেখ করেছে, আধুনিক যুদ্ধে বড় অস্ত্রের তুলনায় ছোট অস্ত্রের কার্যকারীতা বেড়েছে। তাই ছোট, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রর দিকে সব দেশেরই মনোনিবেশ করা উচিত।