কিশোরগঞ্জে গরু পালন করে স্বাবলম্বী শতাধিক দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গরু পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শতাধিক দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার। আর এ দরিদ্র পরিবার গুলোর মাঝে গরু পালনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ।

জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ এরিয়া প্রোগ্রাম অফিস নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর, বাহাগিলি, পুটিমারী,নিতাই ও চাঁদখানা ইউনিয়নসহ ৫ টি ইউনিয়নে ১৬ টি গ্রামে অসহায়, দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝ থেকে ৩০৭০ জন শিশুকে তালিকাভুক্ত করে (আরসি) নিবন্ধন করে।

স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী এসব নিবন্ধিত শিশুদের পরিবারসহ অন্যান্য হতদরিদ্র পরিবারগুলো পর্যাক্রমে লাভলীহুড প্রকল্পের আওতায় গরু পাবেন। সে অনুযায়ী ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ পাঁচটি ইউনিয়নের ১৬ টি গ্রামে গিয়ে প্রতিটি গ্রামে ১৫জন সদস্য নিয়ে গ্রাম উন্নয়ন কমিটি গঠন করে।

গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা অসহায় দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা করে ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ কতৃক নিযুক্ত ইউনিয়ন প্রোগ্রাম অফিসারের কাছে গরু বিতরনের তালিকা প্রদান করে।

ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ প্রোগাম অফিস সুত্র জানায়, ২০১১ সাল থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রজেক্ট প্রকল্পের আওতায় কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অসহায়, দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ৬৫০ টি গরু বিতরন করেন। ২০১৮ সালে আরো ৩৭৫ টি গরু এসব পরিবারের মাঝে বিতরন করা ১হয়।

সবমিলে ৩০৭৫টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে এখন পর্যন্ত মোট ১০২৫টি দর্রিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারকে গরু বিতরন করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এসব দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শতাধিক পরিবার গরু পালন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি জয়নন কোর্ট গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের তালিকাভুক্ত নিবন্ধিত শিশুর নাম আরিফা বেগম, শিশুটির নিবন্ধন নম্বর ৭০৮ । শিশুটির মা রেজেকা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ আমার স্বামী মানুষের জমিতে কাজ করে অনেক কষ্টে সংসার চালাত। গত ২০১৩ সালে উত্তর দুরাকুটি গ্রাম উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে আমাকে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ওয়ার্ড ভিশন থেকে একটি বকনা গরুর বাছুর দেয়া হয়।

আমি সেই বাছুরটি লালন পালন শুরু করলে দুই বছর পর সেটি একটি বাছুরের জ¤œ দেয়। ওই বাছুরটি থেকে বর্তমানে আমি ৫ টি গরুর মালিক হয়েছি। বর্তমানে ৫ টি গরুর মধ্যে দুইটি গাভী । প্রতিদিন গাভী দুটির তিন কেজি করে দুধ হয়। সেই দুধ বিক্রির টাকায় আমার দুই সন্তান পড়ালেখা করছে। কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের নিবন্ধিত শিশু রোমেনা আক্তার ।

রোমেনার দিনমজুর বাবা নুরন্নবী মিয়া বলেন, আমি বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কেশবা গ্রাম উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ থেকে একটি গরু পেয়ে বর্তমানে আমি ৪ টি গরুর মালিক । আগামী ইদে আমি একটি গরু বিক্রি করব।

আশা করছি গরুটি ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব। এরকম গরু পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন, দুরাকুটির সালেহা বেগম, চাঁদখানার আম্বিয়া বেগম, পুটিমারীর আকলিমা বেগমসহ শত শত দরিদ্র ও হত দরিদ্র পরিবার। স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ এরিয়া প্রোগ্রাম অফিসের ম্যানেজার পিকিং চাম্বুগং বলেন, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ মুলত শিশুদের নিয়ে কাজ করে।

ওই সমস্ত দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরা যাতে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে সু শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে সেজন্য শিশুটির পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ওয়ার্ড ভিশন কাজ করে যাচ্ছে। কারন যদি একটি শিশুর পরিবার স্বাবলম্বী হয় তাহলে ওই স্বাবলম্বী পরিবারের শিশু সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশ লাভলী হুড প্রকল্প কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক ভুমিকা পালন করছে এবং এই প্রকল্পটি আগামীতে গোটা উপজেলায় সুফল বয়ে আনবে।