কুড়িগ্রামে নদীর পানি বৃদ্ধি – ভাঙ্গন শুরু

রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী, রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই ভাঙনে বিলিন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদী জমি, রাস্তা, বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ ও সড়ক গুলো সংস্কার না করায় নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে ভাঙ্গনও শুরু হয়েছে। বাজেট না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ জায়গা গুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না। কয়েকটি জায়গায় সংস্কার শুরু হলেও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

জেলার প্রায় ১৬টি নদী বৃষ্টি আর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পনিতে ভরে গেছে। জেলার অভ্যন্তরে ৩১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথ ক্রমেই ভাঙ্গনের রুপ নিচ্ছে। ক্রমাগত পানি বৃদ্ধি পেলে ২ শতাধিক চর এবং ৬ শগ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরবে

অব্যাহত পানি বৃদ্ধিও ফলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির স্রতে চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকায় ৯৫ মিটার ব্লক এবং উলিপুর উপজেলার কাজির চরের বাঁধের ৫৫কিমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।

ঝুঁকিতে রয়েছে রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের কালোয়ার চরের ৪শ মিটার, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংটুর ঘাটে ৩শ মিটার, হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোবে ৪শ মিটার, মোগলবাসা ইউনিয়নের চরসিতাইঝাড় এলাকায় ৩শ মিটার, নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে ৩শ মিটার, মুড়িয়া বাজারে ২শ মিটার বাঁধ।

চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ খামার পাড় গ্রামের নদী ভাঙ্গনের শিকার গাদলু চন্দ্র দাস (৪৫) বলেন, ঈদের দিনত ভোর রাইতে বৃষ্টি শুরু নদীত ভাঙ্গন শুরু হয় ওই দিন হামার গাঁওত এতে ১২ জনার বাড়ি নদীত ভাঙ্গি যায় । ওই দিন নদী ভাঙ্গনের কবলে পরা কার্তিক চন্দ্র (৫০), জোহরা বেগম (৫৫), মেনেকা বেগম (৬৫) নামের কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মান করা হয়েছিল কিন্তু নিম্ন মানের কাজ হওয়ায় এক বছরেই সেই বাঁধ নদীতে ভেঙ্গে গেছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরসারডোবা গ্রামের তরারক আলীর বাড়িঘরও ধরলা নদীর ভাঙ্গনে ভেঙ্গে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে দুই ধাপে চিলমারী ও উলিপুর উপজেলাধীন বৈরাগীরহাট ও চিলমারী বন্দর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রথম ধাপে ৩ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার কাজে ৯৬ কোটি ৮৮ লাখ এবং ২৫৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। দুই ধাপে মোট ব্যয় হয় ৩৫৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন বাঁধ নিমানে কোন অনিয়ম হয়নি ব্রহ্মপুত্র নদীর তীব্র পানির স্রতে কিছু জায়গায় ভেঙ্গে গেছে এটা নির্মান ক্রটি নয়। যে সব এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে সে জায়গা গুলোতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঝুঁকি পূণর্ বাধেঁর সংস্কার এর জন্য বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে আর্থিক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অর্থ অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।