ঠাকুরগাঁওয়ে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব পেলেন নিঃসন্তান দম্পত্তি

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার নিঃসন্তান এক মায়ের বুক ভরে গেল কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে পেয়ে। ২৬ জুন মঙ্গলবার বিকালে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত দায়রা জজ ও বিচারক শিশু আদালত বি এম তারিকুল কবীর কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের গত ১৩ জুন বুধবার রাত ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা হরিহরপুর গ্রামের নুরজ্জামানের ছেলে আরফান আলী সদর উপজেলা রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর এলাকায় রাস্তার ধারে একটি পকুরপাড়ে আম গাছের নিচে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় একটি একদিনের নবজাতককে কুড়িয়ে পায়।

পরে তিনি বিষয়টি সদর থানায় অবগত করেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সদর থানা ওই নবজাতকের শারীরিক সুস্থতার বিষয় বিবেচনায় এনে নবজাতকটিকে আরফান আলীর স্ত্রী সুমা আক্তারকে হেফাজতের জন্য দায়িত্ব দেন এবং স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুড়িয়ে পাওয়ার পর যে পরিবার ছেলেটিকে নেয়ার দাবী জানাচ্ছেন তাদের আরো দুটি মেয়ে সন্তান আছে। এর পরেও তিনি নবজাতক শিশুটিকে ‍নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে তার বুকের দুধ পান করিয়ে লালন-পালন করা শুরু করেন।

পরবর্তীতে হরিহরপুর গ্রামের আরফান আলী ও তার স্ত্রী সুমা আক্তার এবং পৌর শহরের নিশ্চিন্তপুর শাহপাড়া গ্রামের মোছা. শারমিন আক্তার ও স্বামী সামছুল আলম নবজাতকের লালন পালন ও হেফাজতের জন্য শিশু আদালতে আবেদন করলে অতিরিক্ত দায়রা জজ ও বিচারক শিশু আদালত বিএম তারিকুল কবীর সে আবেদন আমলে নেন এবং উভয় দম্পত্তিকে আদালতে উপস্থিত হতে বলেন।

পরে মঙ্গলবার বিকালে আদালত নবজাতকের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় এনে নবজাতকটিকে মোছা. শারমিন আক্তার ও সামছুল আলম দম্পত্তির কাছে হস্তান্তর ও তার হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে নবজাতকের উন্নত ভরণপোষণ ও ভবিষ্যতে সম্পত্তির ভাগিদার করার জন্য শারমিন আক্তারকে দ্রুত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।