নরসিংদীতে সরকারি খাস জমি কিনেও ভূমি দস্যুদের কারণে ভূমিতে দখল দেখাতে পারছে না সহিদ মিয়া

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী সদর উপজেলার বানিয়াছল এলাকার সহীদ মিয়া পিতা- মরম আলী সরকারি খাস জমি কিনেও ভূমি দস্যুনামে পরিচিত মোঃ শহিদুজ্জামান চৌধুরী এবং নাজমুল হাসান দের কারণে নিজ জমিতে থেকেও প্রতিনিয়ত অশান্তিতে ভোগছেন। বর্তমানে সহিদ তাদের কারণে নিজে সরকারি খাস জমি কিনেও মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

সহিদ মিয়া ছেলেদের নিয়ে বর্তমানে খুবই অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছেন। এসব প্রভাবশালীদের হুমকিতে দীর্ঘদিন যাবত বাড়িঘর থেকেও আজ ভূমি হারা সহিদ মিয়া। আজ রবিবার সহিদ মিয়া কোনো উপায় না পেয়ে নিরূপায় হয়ে গনমাধ্যম কর্মীকে জানায়,

বর্ণিত সিএস খতিয়ান ভূক্ত সাবেক ৪০৩ দাগের ভূমি সিএস রেকর্ডীয় মালিক আলাউদ্দিন আহম্মেদ কর্তৃক খাজনা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় উক্ত সম্পত্তি নারায়ণগঞ্জ প্রথম মুন্সেফি আদালতে দেওয়ানী ২৭৪৬/১৯৩০ নং মোকদ্দমায় নিলাম হইলে রাজমোহন মালাকার ও গঙ্গাচরণ মালাকার কর্তৃক উক্ত নিলাম খরিদ করিয়া মালিক দখলকার থাকাবস্থায় রাজমোহন মালাকার মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুকালে চাঁদমোহন মালাকার ও রাধারমন মালাকারকে ০২ পুত্র ওয়ারিশ রেখে যায় এবং গঙ্গাচরণ সাহা মৃত্যুকালে ইন্দ্রমোহন সাহাকে ০১ পুত্র বিত্তভোগী ওয়ারিশ রেখে গেলে তাহারা উক্ত সম্পত্তি প্রাপ্ত হয়ে মালিক দখলকার থাকাবস্থায় অন্যান্য দাতাগণ ও অন্যান্য মৌজার ভূমির সহিত একত্রে বিগত ০৬/১২/১৯৪১ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রিকৃত সাফ কবলা দলিল নং- ৫২২২ মূলে নালিশা সাবেক ৪০৩ দাগে ৬০ শতাংশ ভূমি বানিয়াছল নিবাসী মোঃ আনছার আলীর পুত্র জাফর আলী মুন্সি বরাবরে বিক্রি করিয়া দখল বুঝ্ইায়া দেয়।

বর্ণিত জাফর আলী মুন্সী বিগত ০৬/১২/১৯৪১ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রিকৃত সাফ কবলা দলিল নং- ৫২২২ মূলে নালিশা সাবেক ৪০৩ দাগে ৬০ শতাংশ খরিদমূলে মালিক হয়ে ভোগ দখলকার থাকাবস্থায় আঃ রহমান, আঃ খালেক, আঃ মালেক ও আঃ সালামকে ০৪ পুত্র বিত্তভোগী ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করিলে প্রত্যেক পুত্র হারাহারি অংশে প্রাপ্ত হয়ে তাহাদের মধ্যে ঘরোয়া আপোষ আঃ রহমান নালিশা দাগের ১৪ শতাংশ ভূমি প্রাপ্ত হয়।

বর্ণিত জাফর আলী, পুত্র আঃ রহমান পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে নালিশা সাবেক ৪০৩ দাগে ৬০ শতাংশ ভূমিতে হারাহারি অংশে ১৪ শতাংশ ভূমির মালিক হয়ে ভোগ দখলকার থাকাবস্থায় তাহার প্রয়োজনে বিগত ১৮/০৭/১৯৪৯ ইং তারিখে রেজি:কৃত সাফ কবলা দলিল নং- ৪৭৩৭ মূলে নালিশা সাবেক ৪০৩ দাগে তাহার প্রাপ্ত ১৪ শতাংশ ভূমি মহরম আলী মুন্সি ও মোঃ সোনা মিয়া বরাবরে বিক্রি করিয়া দখল বুঝাইয়া দিয়া নি:স্বত্ত্ববান হয়।

পরে সহিদ মিয়ার পিতার মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তিতে মাছের চাষ করিয়া এবং পূর্বাংশে রাস্তার পাশে ঘর নির্মান করিয়া খাজনাদী পরিশোধ করিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ তপছিল বর্ণিত সম্পত্তি ভোগ দখলে নিয়ত আছেন।

কিন্তু ভূমি দস্যুনামে পরিচিত মোঃ শহিদুজ্জামান চৌধুরী এবং নাজমুল হাসান দের উক্ত সম্পত্তিতে স্বত্ব, স্বার্থ, দখল কিছুই নাই। তবুও তারা সহিদ মিয়ার উপর প্রতিনিয়ত উক্ত সম্পত্তির জন্য অত্যাচার, জুলুম সহ নানা রকম অবিচার করে আসছে।

এ ব্যাপারে জেলা বারের আইনজিবী জানান, আদালতে সহিদ মিয়ার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রতিপক্ষ তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধ্বমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে আদালত।

বর্তমানে উক্ত সম্পত্তির জন্য সহিদ মিয়া খুবই বেহাল অবস্থায় জীবন ধারণ করছেন। তাই তিনি এ ব্যাপারে জনসাধারণের সহযোগিতা চান।