ফের তালতলী বাঁধ ভাঙ্গার শেষ সীমানায় উপকূলের কয়েক’শ পরিবার , সাহায্য মেলেনি ১১ দিনে

পায়রা নদীর ভাঙন অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলছে না বরগুনার তালতলী তেতুলবাড়িয়া’র পূর্ব নলবুনিয়া এলাকাবাসীর। এক ভাঙনের ঘাঁ শুকাতে না শুকাতে ফের ভয়াবহ ভাঙন কবলে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা। বর্ষায় অতি বৃষ্টি ও নদীর ভাঙন আরো তীব্র আঁকারে রূপ নিয়েছে। গত কাল বিকাল ৩টা দিকে চোখের পলকে ৩৩ শতাংশ ভেঙ্গে নদিতে বিলিন হয়ে যায়।

আপর দিকে গত ১৪ তারিখ রিন বেরিবাধঁ ভেঙ্গে পাঁচশত পরিবার পানি বন্দি হলে। মাত্র ৭০ পরিবারকে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয় ও ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও ১১ দিনে এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাবাসি।

নদীর তীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত নির্মাণ না করা গেলে, সময়ের ব্যবধানে পায়রা’র করাল গ্রাসে নবনির্মিত বাঁধ বিলিন হয়ে যাবে। এতে ব্যস্তে যাবে নদী ভাঙণ প্রতিরোধে সরকারের হাজারও টাকার প্রকল্প। বেরিবাঁধ নির্মাণে অর্থবরাদ্ধের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

আজ সকালে(২৬জুন) সরেজমিনে তেতুলবাড়িয়া পূর্ব নলবুনিয়া ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চলতি বর্ষার মৌসুমে পায়রা’র নদীর ভয়াবহ ভাঙনে তলিয়ে গেছে এই উপজেলার পূর্ব নলবুনিয়ার অধিকাংশ এলাকা। দানবের মত গ্রাস করে নিঃশ্ব করে দিয়েছে ওই অ লের মানুষ গুলোকে।

স্থানিয়দের দাবী, নদীর তীর রক্ষায় তেুুলবাড়িয়া টু পূর্ব নলবুনিয়া ১ কিলোমিটার যতেষ্ট নয়, ভাঙন প্রতিরোধে ৫ কিলোমিটার স্থায়ী বেরি বাঁধ নির্মাণ কাজ করা অতি জরুরী। তা না হলে ভাঙল কবলে পড়ে এলাকার সাধারন মানুষ নদী গর্বে তলি যাবে। তাই অতিবিলম্বে অর্থবরাদ্দের মাধ্যমে স্থায়ী রক্ষা বাঁধ নির্মানের দাবী স্থানীয়দের।

স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডেও গ্রাম প্রলিশ মো: সেলিম জানান, ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো চাল কেউ পায় নাই। ঈদের ২ দিন পরে চাল দেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো চাল বিতারন করা হয় নাই।ও গত কাল বিকাল ৩টার সময় আমাদের এলাকার ৩৩শতাংশ যায়গা জুড়ে বেরিবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এষনও অনেকে ভয় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নদীর পাড়ের দোকানদার নজরুল বলেন, গত ১৪ তারিখ রিন বেরিবাঁধ ভেঙ্গে বাড়িসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছিলো। নিঃস্ব হয়ে নদীর পাড়ে দোকান ব্যবসা করে সংসার চাই, তাও কয়েক’ বার ভাঙ্গল কবলে পড়ে স্থান্তর করতে হয়েছে। সেই ঘাঁ শুকাতে না শুকাতে ফের ভয়াবহ ভাঙ্গনে রুপ নিয়েছে পূর্ব নলবুনিয়া।

বাঁধ রক্ষায় দ্রুত নদীর স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোসা: ফিরোজা বলেন ঈদের আগে প্রশাসনের সহযোগিতায় ৫০০ টাকা করে ৭০ পরিবার কে দেওয়া হয়। কিন্তু ২০ কেজি করো চাল এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন গত কাল বিকালে ৭০ জনের নামে ডিউতে সাক্ষর হইছে। আজ সেই ডিউ নিয়ে গেছে চেয়ারম্যান হয়ত দুএকদিনের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল বিতারন করা হবে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফারজানা রহমান বলেন, ঈদেও আগে আমি নিজে গিয়ে প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি। আর বিশেষ করে ঈদের বন্ধ ও ডিসি অফিস থেকে বরাদ্ধ দিতে দেরি হওয়াতে ঔ ৭০ পরিবার কে ২০ চাল বিতারন করতে সমস্যা হইছে ।

বাঁধ নির্মাণ কাজের জন্য দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার হবে। অর্থবরাদ্দ পেলে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।