ভোলায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় পূর্ব চর ইলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নিয়োগ কমিটি আদালতের রায় উপেক্ষা করে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ছেলেকে ‘দপ্তরি কাম প্রহরী’ পদে নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ ৩০ জুন (শনিবার) বেলা ১১টার সময় ভোলা শহরের এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরীক্ষায় প্রথম হওয়া প্রার্থী হাসনাইন আহম্মেদের বড় ভাই ও বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য মো. সাব্বির আহম্মেদ বলেন, ২০১৪ সালে ১৪ নম্বর পূর্ব চর ইলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‌’দপ্তরি কাম প্রহরী’ পদে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ওই ১ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মৌখিক পরীক্ষা হয়।

তখন মৌখিক পরীক্ষায় সেখানে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। ওই পরীক্ষায় হাসনাইন আহম্মেদদ ৫২ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এসএমসি) রেজুলেশন করে হাসনাইনকে নিয়োগ পত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নিয়োগপত্র পত্রের জন্য প্রধান শিক্ষক ও এসএমসির সদস্য সচিব মো. হোসেন আহাম্মেদ সাব্বিরের কাছে (হাসনাইনের বড় ভাই) ৪ লাখ টাকা দাবি করেন।

সাব্বির দেড় লাখ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু দেড় লাখ টাকায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগপত্র দিতে রাজি হননি। তখন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও রেজুলেশন বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। পরবর্তীতে ১৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে আবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সাব্বির আরও বলেন, তাই পূর্বের নিয়োগ বহাল ও পরবর্তি নিয়োগ বাতিলের দাবিতে হাসনাইন আহম্মেদ উচ্চ আদালতে রিট করেন।

আদালত চলতি বছরের ২১মার্চ ৩০দিনে মধ্যে নিয়োগ কমিটিকে হাসনাইন আহম্মেদকে নিয়োগ প্রদানের রায় প্রদান করেন। রায় কার্যকর না হওয়ায় বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, ভোলা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উকিল নোটিশ পাঠান।

এদিকে ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, হাসনাইন আহম্মেদকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক তাঁকে বাদ দিয়ে পূর্ব-ইলিশা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন ওরফে কালু মিয়াকে সভাপতি বানিয়েছেন। তাঁর ছেলে কামরুল ইসলামকে দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

অপর দিকে প্রধান শিক্ষক মো. হোসেন আহাম্মেদ টাকা নিয়ে নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করে বলেন, পূর্বের নিয়োগ বাতিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নতুন করে পরীক্ষা নিয়েছেন। এখানে তাঁর কোনো হাত নেই।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের মো.কামাল হোসেন বলেন, আদালতের রায় উপেক্ষা করে অন্যকে নিয়োগ দেওয়ার কথা না। এ ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ইউএনও ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জড়িত। তবে সকল কাগজপত্রসহ আবেদন করলে তিনি ঘটনাটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সামসুল ইসলাম দেওয়ান সাংবাদিকদের জানান, তিনি আদালতের রায়সহ সকল কাগজপত্র হাতে পেলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতামত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তিনি কোনো আদালতে কাগজ পাননি।