লালপুরে স্বামী কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউপির পূর্বপাড়া গ্রামে জিল্লুর মোল্লা (৩৫) নামের এক যুবক কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সাফিরন বেগমের বিরুদ্ধে। নিহত জিল্লুর মোল্লা ওয়ালিয়া গ্রামের আলী মোল্লার ছেলে। স্ত্রী সাফিরন পাশ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামের মৃত মুকবুল আলীর মেয়ে।

নিহতের বড়ভাই মিঠুন ও এলাকাবসী বলেন, ১০ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়, সাফিরন দুই সন্তানের জননী। নিহত জিল্লুর মোল্লার সাঙ্গে তার স্ত্রী সাফিরন সংসারিক সম্পর্ক ভালো ছিলো না। জিল্লুর সংসারে অনেক টাকা ঋণ হয়। আর এই ঋণ শোধ করার জন্যই জিল্লু কাজের সন্ধানে ঢাকায় যায়।

আর তার স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে সংসার পেতেছে। এমন খবর শোনার পর স্ত্রীকে ফেরত পেতে তার পেছন পেছন ঘুরতে থাকে জিল্লু। এজন্য জিল্লুর তার শ্বশুর বাড়ি পাশ্ববর্তী বড়াগ্রামেও যাতাআত করতো। গত (২৪ জুন) বড়াইগ্রাম উপজেলার জয়বাংলা নাম স্থানে গুরুতর আহত অবস্থায় জিল্লুর কে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরে বড়াইগ্রাম থানার সার্কেল এ এস পি হারুনার রশিদ তাকে উদ্ধার করে বনপাড়া পাটোয়ারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থা অবনতি হলে পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেই রাতেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার বলছে,‘জিল্লুর স্ত্রীর তাকে মেরে ফেলেছে। কারন জিল্লুর লাশের পায়ের রগ ও নখ কাটা ছিলো এবং তার গোপন অঙ্গে আগত লাগা ছিলো। এক্সিডেন্ট হলে এমন হতো না।

এ ব্যাপারে জিল্লুর স্ত্রী সাফিরন হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার অন্য কোথাও বিয়ে হয় নি। আমি জিল্লু কে মেরে ফেলিনি। আমাদের সংসারে অনেক টাকা ঋণ ছিলো তাই আমার স্বামী টাকা জোগার করতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। আর আমি নাটোরে বাসা ভাড়া নিয়ে নিজের দেহ বিক্রয় করে টাকা উপার্জন করে ঋণ শোধ করছিলাম। আমি আমার স্বামীকে মেরে ফেলিনি।

এ ব্যাপারে ওয়ালিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, জিল্লুর সঙ্গে তার স্ত্রী সাগরীর সম্পর্ক ভালো ছিলো না। তার স্ত্রী জিল্লু কে ছেড়ে অন্য একজনের সঙ্গে চলে গিয়েছিলো। স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনার জন্য জিল্লু অনেকবার আমার সঙ্গে কথা বলেছে কিন্তু তার স্ত্রী ফিরে আসেনি। গত ঈদের আগেও তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তাকে কে বা কাহার ধরে রেখেছে বলে জিল্লু আমাকে মোবাইলে জানায়।

তিনি আরো বলেন, জিল্লুর মৃত্যুর পরে রাজশাহী রাজপাড়া থানায় তার পরিবারের সদস্যরা বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে। আর লাশটি ময়না তদন্ত শেষে সোমবার তার নিজ বাড়ি ওয়ালিয়া পূর্বপাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়। তবে জিল্লুর লাশের পায়ের রগ ও নখ কাটা ছিলো এবং তার গোপন অঙ্গে আঘাত লাগা ছিলো বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার সার্কেল এ এস পি হারুনর রশিদ বলেন, গত রবিবার অফিসিয়াল কাজে আমি লালপুরে গিয়েছিলাম, ফিরার পথে কয়েকজন লোক বলছিলো সামনে একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থল জয়বাংলা নাম স্থানে গিয়ে দেখি কয়েকজন লোক মিলে গুরুতর আহত অবস্থায় একজন কে গাড়িতে উঠনোর চেষ্ট করছে আমি গিয়ে তাদের সহযোগিতা করে তাকে উদ্ধার করে বনপাড়া পাটোয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করি।

পরে তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এবং রাতেই সে মারা যায়। তবে তাকে কেউ মেরে ছে না কি এক্সিডেন্ট হয়েছে আমি তা বলতে পারবো না। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে বলা যাবে।

এ ব্যাপারে বনপাড়া পাটোয়ারি হাসপাতালের মালিক ও ডা. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠো ফেনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে লালপুর থানার (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।