অনেক প্রতীক্ষার ফলে নির্মিত রায়পুরা-নরসিংদী প্রধান সড়ক বর্তমানে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার একমাত্র সড়ক বহু প্রতিক্ষনের পর নির্মান হলেও বর্তমানে এর অবস্থা দিন দিন সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের পাশ দিয়ে নির্মিত রায়পুরা-নরসিংদী প্রধান সড়কে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।

রায়পুরা- নরসিংদী প্রধান সড়কের ১৯ কি.মি. সড়কের অধিকাংশ স্থানই বিটুমিন ও সুড়কি ওঠে গিয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে গভীর জলাবদ্ধতা। ফলে এ রাস্তায় অটোরিকশা ও সিএনজিসহ যাত্রীবাহী বিভিন্ন যান উল্টে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ পথে যাতায়াতে চালক ও যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগের শেষ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, যাতায়াত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা রায়পুরাবাসীর সুবিধার্থে রেল লাইনের পাশ দিয়ে রায়পুরা-নরসিংদী-মদনগঞ্জ সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৯ কি.মি. পাকা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দুই বছর আগে সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এরপরই চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া হয়।

সড়কটি নির্মাণের ফলে রায়পুরাবাসী স্বল্প সময়ে জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারছে খুব সহজে। অল্পদিনেই সড়কটি রায়পুরা-নরসিংদীর প্রধান সড়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু প্রধান এই সড়কটি নির্মাণের পর সংস্কারের অভাবে সড়কের অধিকাংশ স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে হাঁটুভাঙ্গা ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাজুড়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রতিনিয়তই ব্যাটারিচালিত অটো, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত হচ্ছে অনেক যাত্রী সাধারণ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কের গাইড-ওয়াল ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয় অটো ও সিএনজি রিকশার চালকরা গনমাধ্যম কর্মী সাইফুল ইসলাম রুদ্রকে জানান, এ রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে প্রতিদিনই ৭/৮টি গাড়ি এখানে এসে নষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে সার্ভিস করতে হচ্ছে। ফলে সারাদিন যা আয় হয় তা গাড়ি সার্ভিস করতেই লেগে যায়। ছেলে-মেয়েদের জন্য খাবার কেনার টাকা থাকে না। এতে গাড়ি চালকরা ব্যাপক সংকটে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ মেরামতের জন্য টেন্ডার হয়েছে অনেক আগেই। কাজ শুরু করার বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা ভাল বলতে পারবে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হাঁটুভাঙ্গা ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা হইতে ১ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের টেন্ডার হয়েছে আরো আগেই। বৃষ্টির জন্য কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।